মঈন মাহমুদ
‘সুস্থ নগরের জন্য সুস্থ মাটি ‘- এ প্রতিপাদ্যে বাংলাদেশ সয়েল সায়েন্স সোসাইটি বিশ্ব মৃত্তিকা দিবস উদযাপন করে। এ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও জাতীয় সেমিনারের আয়োজন করা হয়। শোভাযাত্রাটি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কেন্দ্র (বিএআরসি) প্রাঙ্গন থেকে শুরু হয়ে ফার্মগেট কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট হয়ে মৃত্তিকা ভবনে এসে শেষ হয়। পরে মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের মাল্টিপারপাস হলে জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ সয়েল সায়েন্স সোসাইটির প্রেসিডেন্ট ড. মো. মনোয়ার করিম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. আব্দুস সালাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এসিআই এগ্রো বিজনেস ডিভিশনের প্রেডিসেন্ট ড. এফ এএইচ আনসারী ও হেকেম (Haychem) বাংলাদেশের কান্টি ডিরেক্টর এসআইএইচএম মুশফিকুর রহমান। সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের সাবেক মহাপরিচালক ড. শহিদুল ইসলাম।
বক্তারা মাটির গুণাগুণের নানা বিষয়ে সারগর্ভ বক্তব্য রাখেন। প্রথান অতিথি বলেন, মানুষের অজ্ঞতা আর কীটনাশকের যাচ্ছেতাই ব্যবহারের কারণে মাটির গুণাগুন নষ্ট হচ্ছে। এর ফলে পরিবেশ বিপর্যয়ের মতো পরিস্থিতিও সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে কার্বন নিঃসণের হার বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক গুণ বেশি। এর ফলে আমাদের মাটিও দূষিত হচ্ছে। তিনি বলেন, নিরাপদ ও সুস্বাদু খাবারের জন্য সুস্থ মাটি অপরিহার্য।
সভাপতির বক্তব্যে ড. মো. মনোয়ার করিম খান বলেন, বিশ্ব মৃত্তিকা দিবসের যাত্রা শুরু ২০১২ সালে। তার আগে ২০০২ সালে আন্তর্জাতিক সয়েল সায়েন্স ইউনিয়ন থাইল্যান্ডে মৃত্তিকা দিবস উদযাপনের প্রস্তাব করে এবং বিশ্ব খাদ্য সংস্থা ২০১২ সালে তা প্রথম উদযাপন করে। ২০১৩ সালে জাতিসংঘের ৬৮ তম অধিবেশনে বিশ্ব মৃত্তিকা দিবস আন্তর্জতিকাভাবে উদযাপনের বিল পাশ হয়। তিনি বলেন, আজ মাটি কান্না করছে, সে কান্না আমরা শুনতে পাই না। যখন আমাদের বোধোদয় হবে তখন হয়তো পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে। তিনি বাংলাদেশর মাটি রক্ষায় সয়েল সায়েন্স সোসাইটির গুরুত্ব আরোপ করেন এবং সবাইকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশ সয়েল সায়েন্স সোসাইটির বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আরএস
No comments yet. Be the first to comment!