পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ ও রসায়ন খাতের গ্লোবাল হেভি কেমিক্যালস লিমিটেড-এর আর্থিক প্রতিবেদনে কোম্পানির সম্পদের তুলনায় দায় অষ্টগুণের বেশি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এতে দায় পরিশোধের সক্ষমতা ও কোম্পানির ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে সম্প্রতি প্রকাশিত ৩০ জুন ২০২৫ সমাপ্ত অর্থ বছরের নিরীক্ষিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান আহমেদ জাকের অ্যান্ড কোম্পানি, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস। গ্লোবাল হেভি কেমিক্যালস ২০১৩ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছিল।
নিরীক্ষক জানিয়েছেন, ৩০ জুন ২০২৫-এ কোম্পানির মোট দায় ১৩৮ কোটি ২৫ লাখ টাকার বেশি, যার মধ্যে ব্যাংক ঋণ ৯১ কোটি ৫৫ লাখ, আন্তঃকোম্পানি দায় ১৯ কোটি ৭৪ লাখ, এবং অন্যান্য সরবরাহকারী ও পাওনাদারের বকেয়া ১৮ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। এর বিপরীতে কোম্পানির চলতি সম্পদের পরিমাণ মাত্র ১৬ কোটি ৯৮ লাখ টাকা, অর্থাৎ ১ টাকার সম্পদের বিপরীতে দায় ৮ টাকা ১৪ পয়সা।
এক বছরের ব্যবধানে বিক্রি ৭৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা থেকে কমে ৩১ কোটি ৩২ লাখ টাকায় নেমেছে, যা ৫৮ শতাংশের বেশি পতন নির্দেশ করে। এর পাশাপাশি বিক্রি ও বিতরণ খরচ বেড়ে ২ কোটি ৫ লাখ টাকা হয়েছে, যা আগের বছর ছিল ১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। নিরীক্ষক উল্লেখ করেছেন, বিক্রি কমা সত্ত্বেও বিতরণ ব্যয় বৃদ্ধির যৌক্তিকতা ও অনুমোদন নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
নিরীক্ষক আরও জানিয়েছেন, কোম্পানি নির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই সাময়িকভাবে কারখানা বন্ধ করেছে এবং পরে সীমিত পরিসরে উৎপাদন শুরু করেছে। চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত পুঞ্জীভূত লোকসান ৫২ কোটি ৬১ লাখ টাকা হয়েছে।
এছাড়া কোম্পানি আইন অনুযায়ী, নিরীক্ষক নিয়োগের জন্য বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আয়োজন করতে হতো। তবে কোম্পানিটি এখনও ৩০ জুন ২০২৫ সমাপ্ত হিসাব বছরের এজিএম আহ্বান করেনি এবং পরিবর্তে পর্ষদ সভার মাধ্যমে নিরীক্ষক নিয়োগ দিয়েছে।
আরএস
No comments yet. Be the first to comment!