ধর্ষণ, হত্যা ও নানা ধরনের নিপীড়নের ঘটনায় দেশে শিশুদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত শিশু বিষয়ক সংবাদের বড় অংশই সহিংসতার সঙ্গে সম্পর্কিত। গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, পত্রিকায় প্রকাশিত শিশু বিষয়ক খবরের ৬৩ শতাংশই ধর্ষণ ও হত্যা সংক্রান্ত।
‘শিশু অধিকার পরিস্থিতি–২০২৫’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্লেষণ করা এক হাজার ৮৬৭টি নেতিবাচক সংবাদের মধ্যে এক হাজার ১৭০টিই শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা নিয়ে। যা শিশুদের যৌন ও জীবন নিরাপত্তার ক্ষেত্রে চরম ঝুঁকির চিত্র তুলে ধরে।
গতকাল রোববার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। উন্নয়ন সংস্থা মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ) ও স্ট্রিট চিলড্রেন অ্যাক্টিভিস্টস নেটওয়ার্ক (স্ক্যান) বাংলাদেশের সহায়তায় সচেতন সংস্থা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন সচেতন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সাকিলা পারভীন। অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন এমজেএফ-এর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মহাপরিচালক মোছা. আরজু আরা বেগম, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের যুগ্ম মহাপরিদর্শক মোছা. জুলিয়া জেসমিন, সমাজসেবা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক রতন কুমার হালদার, ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ-এর সমন্বয়ক শরীফ জামিল, সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র এবং এমজেএফ-এর ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার পাবলো নেরুদা।
গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন স্ক্যানের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মুকুল। প্রতিবেদনের সুপারিশে বলা হয়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহারে শিশু অধিকার নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার থাকতে হবে। রাজনৈতিক সহিংসতা থেকে শিশুদের দূরে রাখতে কার্যকর আইন প্রয়োগ ও রাজনৈতিক সমঝোতা জরুরি। একই সঙ্গে শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে শিশু একাডেমির মহাপরিচালক আরজু আরা বেগম বলেন, “আমরা একটি অস্থির সময় পার করছি। সেই অস্থিরতার প্রভাব শিশুদের ওপরও পড়ছে। পরিবারই শিশুদের প্রথম শিক্ষা কেন্দ্র হলেও অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের মধ্যেই শিশুরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।” তিনি শিশু অধিকার রক্ষায় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাবের কথা তুলে ধরেন এবং এ কাজে গণমাধ্যমের আরও সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেন।
এমজেএফ-এর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, সংবাদপত্র বিশ্লেষণ স্পষ্টভাবে দেখায় যে ২০২৫ সালে শিশুরা চরম নিরাপত্তাহীনতা ও সহিংসতার শিকার হয়েছে। যদিও শিশু অধিকার ও সুরক্ষায় কিছু ইতিবাচক উদ্যোগের কথাও সংবাদে উঠে এসেছে, তবু শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা—বিশেষ করে যৌন নিপীড়ন ও দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু—উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। তিনি শিশুদের সার্বিক সুরক্ষায় আইন দ্রুত ও কার্যকরভাবে প্রয়োগ, পারিবারিক ও সামাজিক পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও শিশু-বান্ধব করার আহ্বান।
আরএস
No comments yet. Be the first to comment!