ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)–এর উইমেন ইঞ্জিনিয়ার্স চ্যাপ্টারের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক নারী দিবস–২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও র্যালির আয়োজন করা হয়েছে।
রোববার (৮ মার্চ) বিকেল ৩টায় রাজধানীর রমনায় আইইবি সদর দপ্তরের শহীদ প্রকৌশলী ভবনে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে নারী প্রকৌশলীদের অবদান, কর্মক্ষেত্রে তাদের চ্যালেঞ্জ এবং সমান সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আইইবির প্রেসিডেন্ট ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)–এর চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম (রিজু)। তিনি বলেন, নারীরা আজ যে অবস্থানে পৌঁছেছেন, তা তাঁদের নিজস্ব মেধা ও যোগ্যতার ফল। তবে কর্মক্ষেত্রের পাশাপাশি পরিবারেও নারীদের নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়।
তিনি বলেন, সমাজে এখনো অনেক ক্ষেত্রে পুরুষের প্রাধান্য বেশি। অনেক পরিবারে ছেলে সন্তানের মতামত ও সুযোগ–সুবিধাকে মেয়েদের তুলনায় বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ মানসিকতা পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে। উইমেন ইঞ্জিনিয়ার্স চ্যাপ্টার আইইবিতে নতুন হলেও ইতিমধ্যে তারা বেশ কয়েকটি সফল আয়োজন করেছে বলে উল্লেখ করে তিনি চ্যাপ্টারটিকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইইবির সম্মানী সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মো. সাব্বির মোস্তফা খান বলেন, ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) নারী শিক্ষার্থীদের ভর্তির মধ্য দিয়ে প্রকৌশল শিক্ষায় নারীদের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রকৌশল শিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
তবে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে সেই অনুপাতে নারীদের অংশগ্রহণ এখনো আশানুরূপ নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। কর্মক্ষেত্রে নারী প্রকৌশলীরা বিভিন্ন ধরনের হয়রানি ও লাঞ্ছনার শিকার হচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি আইইবিতে একটি শক্তিশালী অ্যান্টি–হ্যারাসমেন্ট কমিটি গঠনের অঙ্গীকার করেন।
আইইবির মহিলা কমিটির চেয়ারপার্সন মিসেস মুসলিমা খন্দকার বলেন, নারী শিক্ষার পথপ্রদর্শক বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় অসামান্য ভূমিকা রেখেছেন। তিনি নেপোলিয়নের একটি বিখ্যাত উক্তি উল্লেখ করে বলেন, “আমাকে একটি শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাদের একটি শিক্ষিত জাতি দেব।”
তিনি বলেন, একটি মেধাবী ও উন্নত জাতি গঠনে শিক্ষিত মায়ের বিকল্প নেই। একটি সুন্দর পরিবার ও সমাজ গঠনে নারীর পাশাপাশি পুরুষের সহযোগিতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে উইমেন ইঞ্জিনিয়ার্স চ্যাপ্টারের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী শাহানাজ শারমিন বলেন, আন্তর্জাতিক নারী দিবস নারীদের প্রতি সম্মান জানানো এবং তাঁদের এগিয়ে যাওয়ার পথে উৎসাহ দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।
তিনি বলেন, বিজ্ঞান, চিকিৎসা, রাষ্ট্র পরিচালনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীরা আজ নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রাখছেন। প্রতিকূলতা অতিক্রম করে তাঁরা সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন উইমেন ইঞ্জিনিয়ার্স চ্যাপ্টারের সম্পাদক প্রকৌশলী ইশরাত জাহান। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক নারী দিবস নারীদের অবদান, সংগ্রাম ও সাফল্যকে সম্মান জানানোর একটি বৈশ্বিক দিন। একটি সমৃদ্ধ সমাজ গঠনে নারী ও পুরুষের সমান অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আইইবির ভাইস–প্রেসিডেন্ট (প্রশাসন ও অর্থ) প্রকৌশলী এ.টি.এম. তানবীর–উল হাসান (তমাল), ভাইস–প্রেসিডেন্ট (এসঅ্যান্ডডব্লিউ) প্রকৌশলী নিয়াজ উদ্দিন ভূঁইয়া, ঢাকা কেন্দ্রের সম্মানী সম্পাদক প্রকৌশলী কে. এম. আসাদুজ্জামান, আইইবি মহিলা কমিটির সহকারী সদস্য–সচিব ডা. ফিরোজা মুশিরা, সম্মানী সহকারী সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আহসানুল রাসেল ও প্রকৌশলী সাব্বির আহমেদ ওসমানীসহ আইইবির বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ ও নারী প্রকৌশলীরা।
অনুষ্ঠানে নারী প্রকৌশলী এবং আইইবির মহিলা কমিটির সদস্যদের কার্ড, ফুলের তোড়া ও চকলেট দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।
আলোচনা সভা শেষে আইইবি প্রাঙ্গণে একটি র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র্যালিতে উইমেন ইঞ্জিনিয়ার্স চ্যাপ্টারের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী শাহানাজ শারমিন, ভাইস–চেয়ারম্যান প্রকৌশলী দিলরুবা ফারজানা, সম্পাদক প্রকৌশলী ইশরাত জাহানসহ আইইবির বিভিন্ন চ্যাপ্টার ও সংস্থার নারী প্রকৌশলীরা অংশ নেন।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!