আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করা হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেন, বন, বন্যপ্রাণী, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘ন্যাশনাল গ্রিন মিশন’ নামে পাঁচ দফা পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন।
বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বন ভবনে বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল— “ভেষজ ও সুগন্ধি উদ্ভিদ সংরক্ষণ: স্বাস্থ্য, ঐতিহ্য ও জীবিকার উন্নয়ন।”
পরিবেশমন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী দেশের প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন ও পুনঃখনন করা হবে। এতে জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা মিলবে। পাশাপাশি ক্ষতিকর প্লাস্টিক ও শিল্পকারখানার বিষাক্ত রাসায়নিক ধীরে ধীরে নিষিদ্ধ করে পরিবেশবান্ধব বিকল্প ব্যবস্থা চালু করা হবে।
তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় দক্ষিণাঞ্চলে লবণাক্ততা সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা চালু এবং টেকসই অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সচেতন করতে স্কুলের পাঠ্যক্রমে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, পরিবেশ রক্ষাকে রাজনৈতিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে শুরু হওয়া দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি ও বৃক্ষরোপণ অভিযানের কথা স্মরণ করেন। তিনি জানান, ১৯৭৭ সালে শুরু হওয়া ‘এনভায়রনমেন্ট পলিউশন কন্ট্রোল প্রজেক্ট’ পরবর্তীতে বর্তমান বন অধিদপ্তরে রূপ নেয়।
সভায় মন্ত্রী আরও জানান, চট্টগ্রাম, ভোলা ও পটুয়াখালী জেলার দ্বীপ ও উপকূলীয় চরাঞ্চলে প্রায় ২০০ হেক্টর এলাকায় ম্যানগ্রোভ বাগান সৃষ্টি করা হবে, যাতে উপকূলজুড়ে সবুজ বেষ্টনী গড়ে ওঠে। সামাজিক বনায়নের আওতায় সড়ক, মহাসড়ক ও বাঁধের প্রান্তিক জমিতে ১১ লাখ চারা রোপণ করা হবে। এসব গাছের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব থাকবে স্থানীয় দরিদ্র জনগণের ওপর। নির্দিষ্ট সময় শেষে গাছ বিক্রির অর্থের বড় অংশ তারাই পাবেন।
এ সময় তিনি বসতবাড়িতে সুপারি, আম, মেহগনি, শিলকড়ই, কদম, জাম, মহুয়া, বহেরা, অর্জুন, নিম, হরিতকি, কাঁঠাল ও চালতাসহ বিভিন্ন বনজ, ফলজ ও ঔষধি গাছ লাগানোর আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও বন রক্ষায় বন্যপ্রাণীদের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রাণ-প্রকৃতির সঙ্গে সবকিছুই নিবিড়ভাবে যুক্ত।
তিনি বলেন, সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। এটি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। বনের সামগ্রিক উন্নয়নে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ, আইইউসিএন বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ বিপাশা এস হোসেন এবং অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বন সংরক্ষক ইশতিয়াক উদ্দিন আহমেদ।
এছাড়া বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা করেন মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ বখতিয়ার উদ্দীন এবং বন অধিদপ্তরের উপপ্রধান বন সংরক্ষক মো. জাহিদুল কবির।
অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, বন অধিদপ্তর ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!