দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকল্প নেই বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার কারণে বাংলাদেশের জ্বালানি খাত ক্রমেই ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
তাই দীর্ঘমেয়াদে টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বাড়ানো জরুরি। এ লক্ষ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি–সংশ্লিষ্ট পণ্যের ওপর ভ্যাট ও ট্যাক্স কমানোর দাবি জানিয়েছেন তারা। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র–ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে বৈশ্বিক তেলের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার প্রভাব ইতোমধ্যে দেশের বাজারেও পড়েছে। আলোচনায় উল্লেখ করা হয়, দেশে বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি প্রায় ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এতে পরিবহন ব্যয় থেকে শুরু করে শিল্প উৎপাদন—সব ক্ষেত্রেই চাপ তৈরি হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উপায় নিয়ে রাজধানীর বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে একটি গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তারা বলেন, সরকারকে দ্রুত তেল আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য একটি কার্যকর মাস্টারপ্ল্যান গ্রহণ করতে হবে।
বক্তারা জানান, বর্তমানে দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন মোট উৎপাদনের মাত্র ২ থেকে ৩ শতাংশ। এ হার আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের তুলনায় অত্যন্ত কম। তাদের ভাষ্য, একটি স্বার্থন্বেষী মহল সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালাচ্ছে—যেমন জমি সংকট ও কৃষি উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা। তবে বাস্তবে পরিকল্পিতভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা গেলে এ ধরনের সমস্যার সমাধান সম্ভব।
তারা সতর্ক করে বলেন, সময়মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর না হলে দেশের জ্বালানি সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে এর প্রভাব সরাসরি দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনে পড়বে।
আলোচনায় বক্তারা সরকারের ১০ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে অতীতে সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদনের নামে যেসব অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল, ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তারা।
গোলটেবিলে অংশ নেওয়া রাজনীতিবিদরা বলেন, বিদ্যুৎ খাতে যারা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার মাধ্যমে রাষ্ট্রের ক্ষতি করেছে, তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বাড়াতে দক্ষ জনবল তৈরি, গবেষণা জোরদার এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, গত এক দশকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বিদ্যুৎ উৎপাদনে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকেছে। কিন্তু বাংলাদেশ এখনও তুলনামূলকভাবে বিপরীত পথে এগোচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
উল্লেখ্য, গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করে Brighters ও Shocheton Foundation। এতে সহযোগিতা করে Waterkeepers Bangladesh, C3ER, CPRD এবং BSREA।
No comments yet. Be the first to comment!