জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক টেকসই ও ন্যায়সঙ্গত ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার দাবিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি পালিত হয়েছে। পরিবেশবাদী সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)–এর উদ্যোগে গতকাল রোববার এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
বিশ্বব্যাপী জলবায়ু ন্যায্যতার আন্দোলনের অংশ হিসেবে এবং আগামী ২৮–২৯ এপ্রিল কলম্বিয়ার সান্তা মার্তায় অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক সম্মেলনকে সামনে রেখে ঢাকাসহ দেশের ১০টি স্থানে মানববন্ধন, আলোচনা সভা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম আয়োজন করা হয়।
রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে ধরা ছাড়াও ব্রাইটার্স, ক্লাইমেট ফ্রন্টিয়ার্স, বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশন, সিপিআরডি, ইকুইটিবিডি, গর্জন সমাজকল্যাণ সংস্থা, সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলন, কান্দিভিটা সমউন্নয়ন মহিলা সমিতি (কসমস), মিশনগ্রীন বাংলাদেশ, ওএবি ফাউন্ডেশন, ওসিআরইসি, রিভারাইন পিপল, রিভার বাংলা, ইউক্যান, ইয়োডো এবং ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ যৌথভাবে অংশ নেয়।
মানববন্ধনে ধরা’র সদস্য ও শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, জ্বালানির নামে হাজার হাজার একর কৃষিজমি অধিগ্রহণ করে অনেক মানুষকে বাস্তুহারা করা হয়েছে। কিন্তু বৈশ্বিক সংঘাতের সময় জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেলে সার ও শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হয়। তিনি বলেন, দেশে পর্যাপ্ত সূর্যালোক থাকা সত্ত্বেও নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। তাই জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের আহ্বান জানান তিনি।
সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের নিখিল চন্দ্র ভদ্র বলেন, সূর্য, বায়ু ও জলবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের ঘাটতির কারণে তা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। তিনি রামপালসহ সব কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বন্ধ করে পরিবেশ, বন ও মৎস্যসম্পদ রক্ষার দাবি জানান। পাশাপাশি সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে সর্বোচ্চ বিনিয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
ব্রাইটার্সের সোহানুর রহমান–এর সঞ্চালনায় আয়োজিত কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য দেন ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের শাহরিয়ার শাওন ও জাহিদ হাসান, ব্রাইটার্সের সাইদুর রহমান সিয়াম, ওসিআরইসি’র আবু সাদাত মো. সায়েম, গর্জনের ফারজানা উর্মী এবং মিশনগ্রীনের আরমান।
ঢাকা ছাড়াও বাগেরহাটের মোংলা, বরগুনা সদর, তালতলী ও পাথরঘাটা, পটুয়াখালীর কলাপাড়া, কক্সবাজারের পেকুয়া ও কুতুবদিয়া, জামালপুর সদর এবং পাবনার চাটমোহরসহ বিভিন্ন স্থানে একই সময়ে কর্মসূচি পালিত হয়। এসব স্থানে মানববন্ধন ও আলোচনা সভার মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত জ্বালানি বাজারকে অস্থির করে তুলেছে। এর ফলে খাদ্যের দাম বৃদ্ধি, কৃষি ও শিল্প উৎপাদনে ব্যাঘাত এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব পরিস্থিতি জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর ব্যবস্থার দুর্বলতা স্পষ্ট করছে বলে তাঁরা উল্লেখ করেন।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ঐক্য জোরদার হবে এবং জীবাশ্ম জ্বালানিমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক ভবিষ্যৎ নির্মাণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
No comments yet. Be the first to comment!