তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অনুপস্থিতিতে দেশের মানুষকে যে মূল্য দিতে হয়েছে—জীবনহানি, ভোটাধিকারহরণ, একতরফা নির্বাচন ও দমন–পীড়ন—এর অবসান ঘটিয়ে ভবিষ্যতের নির্বাচনগুলোকে সুসংহত ও গ্রহণযোগ্য করতে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থাই সক্ষম হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় কমল মেডিএইড আয়োজিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। আমীর খসরু বলেন, ‘আমরা এমন এক সময় নির্বাচনের মুখোমুখি হয়েছি, যখন জনগণের প্রত্যাশা সুষ্ঠু ভোটের। যদিও এই নির্বাচনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সংশ্লিষ্টতা নেই, তারপরও আশা করি নির্বাচনটি অন্তত গ্রহণযোগ্য হবে।’ তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকারের অনুপস্থিতিতে দেশ অতীতেও পিছিয়ে পড়েছে এবং এখনো একটি অনির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। তাঁর ভাষ্য, ‘আমি স্বৈরাচারের সঙ্গে তুলনা করছি না, তবে জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়া কোনো সরকারই দেশের পূর্ণ সম্ভাবনা অর্জন করতে পারে না। মানুষ একটি নির্বাচিত সরকারের অপেক্ষায় আছে।’
এ সময় স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্ব নিয়ে মন্তব্য করেন বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য। তিনি বলেন, উন্নত দেশগুলোতে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত সামাজিক কাজে সম্পৃক্ত থাকে। অথচ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো কোনো ফার্মেসি নেই—এটিকে ‘স্বাস্থ্য–সচেতনতার ঘাটতি’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার। প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। আমরা চাই প্রতিটি নাগরিকের জন্য বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হোক।’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদক সমস্যার অনুপস্থিতিকে তিনি ‘কৃতিত্ব’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
স্বাস্থ্যসেবা ব্যয় নিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতিটি পরিবারকে মাসে পাঁচ থেকে দশ হাজার টাকা স্বাস্থ্যখাতে ব্যয় করতে হয়। যদি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা বিনামূল্যে নিশ্চিত করা যায়, তাহলে এই টাকা সাশ্রয় হয়ে অন্যান্য খাতে ব্যবহার করা যাবে।’ এ সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোনো ইতিবাচক উদ্যোগ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। তিনি সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালের মানোন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেন।
এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে অসুস্থতার প্রভাব পরবর্তী সময়ে গুরুতর হয়ে দাঁড়ায়। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ফার্মেসির অভাব এবং মেডিকেল সেন্টারের সেবা সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করেন। মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
কমল মেডিএইডের প্রতিষ্ঠাতা শেখ তানভীর বারী হামিম বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের পর হলে উঠে তিনি ফার্মেসির অভাব অনুভব করেন। শিক্ষার্থীদের দরজায় ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার চিন্তা থেকেই কমল মেডিএইডের সূচনা। ডাকসুর ভূমিকা শিক্ষার্থীদের স্বার্থে হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আরএস
No comments yet. Be the first to comment!