রাজনীতি

আমরা দেশি–বিদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য ‘কমফোর্ট জোন’ তৈরি করতে পারিনি : জামায়াতের আমির

আপডেট: নভে ২৯, ২০২৫ : ০৯:০৯ এএম
আমরা দেশি–বিদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য ‘কমফোর্ট জোন’ তৈরি করতে পারিনি : জামায়াতের আমির

রাজনীতির সুস্থ ধারাই দেশের সব নীতি ও অগ্রগতিকে সঠিক পথে পরিচালিত করে—এ কথা উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, রাজনীতির বাইরে কোনো অর্থনীতি নেই। তাঁর ভাষায়, “মগজ ঠিক থাকলে গোটা শরীর ঠিকভাবে কাজ করে। রাজনীতি ঠিক না থাকলে অর্থনীতিও চলবে না।”

আজ শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘চতুর্থ বাংলাদেশ অর্থনীতি সম্মেলন–২০২৫’-এ অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ব্যবসায়বান্ধব পরিবেশ প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত আমরা দেশি–বিদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য কাঙ্ক্ষিত সুবিধা ও কমফোর্ট জোন তৈরি করতে পারিনি—এটাই বাস্তবতা। তবে যা করতে পারিনি, তা ভবিষ্যতে কি হবে না—সে প্রশ্নও থেকে যায়।”

ট্যাক্স ও ঋণনির্ভর উন্নয়নের সমালোচনা

দেশের রাজস্ব কাঠামোর বৈষম্যের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াতের আমির বলেন, “ভিক্ষুক থেকে শুরু করে ধনী শিল্পপতি—সবাই ট্যাক্স দেয়। একজন ভিক্ষুক সারা দিন যা আয় করেন, তা দিয়ে পণ্য কিনতে গেলে তাকেও কর দিতে হয়। নবজাতক শিশুর জন্য কোনো পণ্য কিনলেও ট্যাক্স দিতে হয়। অর্থাৎ জন্মের পর থেকেই সে করের আওতায় আসে।”

তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন মূলত কর ও বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরশীল। বিদেশি ঋণের বোঝা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বইতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষা-অবহেলায় উদ্বেগ আলোচনায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “যাদের সামর্থ্য নেই, তাদের সন্তান স্কুল বা মাদ্রাসায় যেতে পারে না। জীবিকার তাগিদে পথেই থেমে যায় তাদের শিক্ষা। অথচ সেই শিশুদের মধ্যেই হয়তো ভবিষ্যতের গভর্নর বা দেশের নেতৃত্ব দেবার মানুষ লুকিয়ে আছে। তাদের খুঁজে বের করা সমাজ ও সরকারের যৌথ দায়িত্ব।”

দুর্নীতি দমনে ‘মূল সমস্যায়’ নজর দেওয়ার আহ্বান দুর্নীতির সংস্কৃতি সম্পর্কে তিনি বলেন, “মসজিদের ইমাম নিয়োগ করতে গেলেও আর্থিক লেনদেন করতে হয়—সমাজ কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে বুঝে দেখার সময় এসেছে। আমরা দুর্নীতির শাখা–প্রশাখা টেনে দূর করতে চাই, কিন্তু মূল কাণ্ড অক্ষত থাকে।”

বিদেশফেরত দক্ষ জনশক্তির সম্ভাবনা দেশে ফিরে আসা প্রবাসী দক্ষ জনশক্তির অবদান উল্লেখ করে তিনি বলেন, “অনেকে দেশে টাকা উপার্জনের জন্য নয়, বরং দেশকে কিছু দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আসেন। আমরা যদি ডায়াসপোরা বাংলাদেশিদের মধ্যে আস্থা তৈরি করতে পারি, তাহলে তারা দেশের উন্নয়নে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হবেন।”

 

আরএস

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!