রাজনীতি

স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও জান–মালের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত জাতি: রেজাউল করীম

আপডেট: ডিসে ১৬, ২০২৫ : ০২:৪৮ পিএম
স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও জান–মালের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত জাতি: রেজাউল করীম

স্বাধীনতার ৫৫তম দিবসেও জাতি জান–মালের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। তিনি বলেছেন, এমন অবস্থাকে প্রকৃত স্বাধীনতা বলা যায় না। স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে হলে সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে।

আজ মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) বিজয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে দলের কার্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। রেজাউল করীম বলেন, স্বাধীনতার এত বছর পরও মানুষ যদি নিজের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকে, তবে তা স্বাধীনতার ব্যর্থতারই প্রমাণ। একাত্তরের প্রসঙ্গ এলেই কে কী করেছে—সে আলোচনা বেশি হয়, কিন্তু কেন মানুষ জীবন দিয়েছিল, সেই মূল প্রশ্নটি আড়ালেই থেকে যায়। তিনি বলেন, যারা মুক্তিযুদ্ধে জীবন দিয়েছেন, তাঁদের প্রতি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা সবসময়ই থাকবে। তবে তাঁদের আত্মত্যাগের উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনা না করলে সে ত্যাগ অর্থবহ হয় না।

চরমোনাই পীর বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র অনুযায়ী একাত্তরে মানুষ যুদ্ধ করেছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য। আর তার আগের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছিল মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে। তিনি বলেন, এই লক্ষ্যগুলোর আলোকে বিচার করলে দেখা যায়, মুক্তিযুদ্ধের মৌলিক উদ্দেশ্য এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

রেজাউল করীম বলেন, ‘আমরা একটি আলাদা ভূখণ্ড ও পতাকা পেয়েছি। এগুলো স্বাধীনতার প্রতীক, কিন্তু এগুলোই স্বাধীনতা নয়।’ তাঁর মতে, প্রকৃত স্বাধীনতা হলো আয়, সুযোগ ও মর্যাদার বৈষম্য দূর হওয়া, মানুষের ওপর নিপীড়ন বন্ধ হওয়া, খুন–গুম ও বিনাবিচারে আটক বা হত্যার অবসান হওয়া এবং খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা ও নিরাপত্তাসহ মানবিক মর্যাদার নিশ্চয়তা পাওয়া। স্বাধীনতার এত বছর পরও এসব নিশ্চিত হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘এত রক্ত ও জীবন উৎসর্গের পর আমরা আসলে কী পেলাম?’ তাঁর ভাষায়, প্রতীকী স্বাধীনতা পাওয়া গেলেও তা এখনো অর্থবহ হয়নি। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একাত্তরের বিজয়কে অর্থবহ করার সংগ্রাম চালিয়ে যাবে বলে জানান তিনি।

রেজাউল করীম বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্ট দেশের জন্য আরেকটি সুযোগ এনে দিয়েছে। দীর্ঘদিনের জমে থাকা জঞ্জাল দূর করে দেশকে নতুনভাবে গড়ে তোলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সরকার গঠনের সুযোগ পেলে আয়, সুযোগ ও মর্যাদার বৈষম্য দূর করা হবে, আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা হবে এবং খুন–গুম ও নির্যাতনের সংস্কৃতি বন্ধ করা হবে বলে তিনি দাবি করেন।

১৬ ডিসেম্বর নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া একটি স্ট্যাটাসের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এতে প্রকারান্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকেই অস্বীকার করার ইঙ্গিত রয়েছে। এ ধরনের মনোভাব ভুল ও নিন্দনীয়। তিনি বলেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক হবে পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতে। তবে কেউ যদি তাদের ভূখণ্ডে বসে বাংলাদেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে সহায়তা করে, তা মেনে নেওয়া হবে না।

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির ওপর গুলির ঘটনায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্যের সমালোচনা করে রেজাউল করীম বলেন, কোনো সাধারণ জ্ঞানসম্পন্ন মানুষ এমন বক্তব্য দিতে পারেন না। তিনি ওই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানান।

ইসলামী আন্দোলন ঢাকা মহানগরের সভাপতি ও দলের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুস আহমদ। বিশেষ বক্তা ছিলেন ঢাকা দক্ষিণের সভাপতি ও যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা ইমতেয়াজ আলম। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।


আরএস

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!