রাজনীতি

দেশের জন্য সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে চাই : জাইমা রহমান

আপডেট: ডিসে ২৩, ২০২৫ : ০৫:৩১ এএম
দেশের জন্য সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে চাই : জাইমা রহমান
জাইমা রহমান

একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে দেশের জন্য সর্বস্ব দিয়ে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে চান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। মঙ্গলবার ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে নিজের ভাবনা ও অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন তিনি। তাঁর ওই পোস্টটি বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকেও শেয়ার করা হয়েছে।

পোস্টে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়ে শৈশবের একটি স্মৃতিচারণ করেন জাইমা রহমান। তিনি লেখেন, পরিবারকে আগলে রাখা একজন অভিভাবক হিসেবে ‘দাদু’ কতটা মমতাময়ী ছিলেন, সেটাই তাঁর সবচেয়ে প্রিয় স্মৃতিগুলোর একটি। নিজের স্কুলজীবনের একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট জয়ের গল্প উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই বিজয়ের মেডেলটি দাদুকে দেখাতে গিয়ে তাঁর মনোযোগ, গর্ব ও উৎসাহ তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল।

জাইমা রহমান লেখেন, লাখো মানুষের কাছে যিনি ছিলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী, তাঁর কাছে ও তাঁর কাজিনদের কাছে তিনি ছিলেন শুধু ‘দাদু’। দায়িত্বের ভার কাঁধে নিয়েও তিনি পরিবারকে সময় দিতেন, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে সাহস জোগাতেন। এসব ছোট ছোট অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি নেতৃত্বের প্রথম শিক্ষা পেয়েছেন—নম্রতা, আন্তরিকতা এবং মন দিয়ে শোনার মানসিকতা।
বিদেশে কাটানো ১৭ বছরের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে জাইমা রহমান বলেন, এই সময় তাঁর জীবনবোধে পরিবর্তন এনেছে, তবে তিনি কখনো নিজের শিকড় ভুলে যাননি। লন্ডনের দিনগুলো তাঁকে বাস্তববাদী ও বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন করেছে, যদিও তাঁর হৃদয় সব সময় বাংলাদেশেই ছিল।

আইন পেশায় কাজ করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি লেখেন, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা তাঁকে শৃঙ্খলা শিখিয়েছে, আর মানুষের সঙ্গে কাজ করা তাঁকে শিখিয়েছে দায়িত্ব নিতে, বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে। ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত মানুষের গল্পগুলো তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে এবং মানুষ হিসেবে কেমন হতে চান, তা ভাবতে শিখিয়েছে।

পোস্টে তিনি আরও লেখেন, নিজের ‘দাদা’কে তিনি দেখেননি, তবে তাঁর সততা ও দেশপ্রেমের কথা সব সময় শুনে এসেছেন। ‘দাদু’ ও ‘আব্বু’ সেই আদর্শই বহন করে চলেছেন। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান এবং ৫ আগস্টের আগে-পরে সময়টাতে তিনি নেপথ্যে থেকে সাধ্যমতো ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছেন বলেও উল্লেখ করেন জাইমা রহমান।

দেশে ফেরার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বহু বছর পর দেশে ফেরা তাঁর জন্য আবেগ ও অনুভূতির এক অনন্য সংমিশ্রণ। দেশে ফিরে ইনশাআল্লাহ তিনি দাদুর পাশে থাকতে চান এবং এই সময়টাতে বাবাকে সর্বাত্মক সহায়তা করতে চান। একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে দেশের জন্য সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে চান তিনি।

জাইমা রহমান আরও লেখেন, নিজের চোখে ও অভিজ্ঞতায় বাংলাদেশকে নতুন করে জানতে চান, মানুষের সঙ্গে সামনাসামনি কথা বলতে চান। দেশের জনগণের প্রত্যাশা ও কৌতূহলের কথাও তিনি উল্লেখ করেন এবং বলেন, সেই প্রত্যাশা পূরণের দায়ভার তিনি অনুভব করেন। নিজের গল্পের মধ্য দিয়ে তিনি সবাইকে একসঙ্গে পথচলার আহ্বান জানান।


আরএস

Tags:
জাইমা রহমান

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!