আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতামূলক করতে জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা আটটি দলের সঙ্গে যৌথভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘বৃহত্তর ঐক্যের স্বার্থে আমরা এই নির্বাচনী সমঝোতায় পৌঁছেছি।’
আজ রোববার রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, আগামীকাল (সোমবার) যৌথ সমঝোতার ভিত্তিতে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হবে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, শুরুতে এনসিপি এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল এবং ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতিও চলছিল। এ লক্ষ্যে সারা দেশ থেকে মনোনয়ন আহ্বান করা হয়েছিল। তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন ও সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ বিবেচনায় নিয়ে দলটি বৃহত্তর ঐক্যের পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেয়।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এ ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি গভীর সংকেত দিয়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘এই হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে বোঝা যাচ্ছে, নির্বাচন বানচাল করতে এখনও কিছু আধিপত্যবাদী শক্তি সক্রিয় রয়েছে।’
এনসিপির আহ্বায়ক আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে যুক্ত তরুণ সমাজ, নাগরিক ও শহীদ পরিবারগুলোই মূল লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে। এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং গণঅভ্যুত্থান–পরবর্তী অগ্রযাত্রা রক্ষায় একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক ঐক্য জরুরি হয়ে উঠেছে।
জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১০ দলের জোটকে তিনি ‘নির্বাচনী সমঝোতা জোট’ হিসেবে উল্লেখ করেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, এই জোট সংস্কার, বিচার, দুর্নীতিবিরোধিতা ও আধিপত্যবাদবিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচিতে একসঙ্গে কাজ করবে।
তিনি জানান, সমঝোতার আওতায় যেসব আসনে এনসিপির প্রার্থী থাকবে না, সেসব আসনে জোটের অন্য শরিক দলের প্রার্থীদের পক্ষে এনসিপি প্রচারণায় অংশ নেবে।
সংবাদ সম্মেলনে দলের সদস্যসচিব আখতার হোসেনসহ এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আরএস
No comments yet. Be the first to comment!