রাজনীতি

নাহিদ ইসলামের হলফনামা নিয়ে বিভ্রান্তি, ব্যাখ্যা দিয়েছে এনসিপি

আপডেট: জানু ০২, ২০২৬ : ০৩:৫৬ পিএম
নাহিদ ইসলামের হলফনামা নিয়ে বিভ্রান্তি, ব্যাখ্যা দিয়েছে এনসিপি

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নির্বাচনী হলফনামা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে দলটি। হলফনামায় উল্লেখ করা তাঁর মোট সম্পদ ও আয় নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে বলে এনসিপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

দলটির যুগ্ম সদস্যসচিব তামীম আহমেদ এক বিবৃতিতে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন। বিবৃতিতে বলা হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পদে দায়িত্ব পালনকালে নাহিদ ইসলামের বেতন–ভাতা থেকে মোট আয় হয়েছে ১১ লাখ ৩৬ হাজার ৭৯ টাকা। সাত মাস উপদেষ্টা পদে থেকে গড়ে মাসে প্রায় ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা হিসেবে তিনি এ আয় করেন।

উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগের পর তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পরামর্শক হিসেবে মাসিক ১ লাখ টাকা সম্মানিতে কাজ শুরু করেন বলে বিবৃতিতে জানানো হয়। এ হিসাবে গত অর্থবছরে উপদেষ্টা ও পরামর্শক পেশা থেকে তাঁর মোট আয় দাঁড়ায় ১৬ লাখ টাকা।

তামীম আহমেদ বলেন, ২০২৪–২৫ আয়বর্ষে ওই আয়ের বিপরীতে নাহিদ ইসলাম মোট ১ লাখ ১৩ হাজার ২৭৪ টাকা আয়কর পরিশোধ করেছেন। এসব তথ্য তাঁর আয়কর রিটার্নে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। সেই অনুযায়ী নির্বাচনী হলফনামায় তাঁর বাৎসরিক আয় ১৬ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হলফনামা অনুযায়ী নাহিদ ইসলামের বর্তমান মোট সম্পদের পরিমাণ ৩২ লাখ ১৬ হাজার ১২২ টাকা। এতে উপদেষ্টা ও পরামর্শক পেশা থেকে অর্জিত আয়, নগদ অর্থ, পূর্বের সঞ্চয়, বিভিন্ন সামাজিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠানে আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে পাওয়া অর্থ ও স্বর্ণালংকারের বর্তমান বাজারমূল্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

নাহিদ ইসলামের পেশা শিক্ষকতা দেখানো হয়েছে—এমন দাবিকে অপতথ্য উল্লেখ করে তামীম আহমেদ বলেন, আয়কর রিটার্ন বা নির্বাচনী হলফনামার কোথাও তাঁর পেশা শিক্ষকতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। নির্বাচনী হলফনামার ৪ নম্বর কলামে বর্তমান পেশা হিসেবে পরামর্শক এবং পূর্বতন পেশা হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টা পদ স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।

বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগের সময় নাহিদ ইসলামের সোনালী ব্যাংকের একটি মাত্র হিসাবে জমা ছিল ১০ হাজার ৬৯৮ টাকা, যা তিনি নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছিলেন। বর্তমানে সেই হিসাবে জমার পরিমাণ ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৩৬৩ টাকা ৫৭ পয়সা।

এ ছাড়া সোনালী ব্যাংকের ওই হিসাব এবং নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের জন্য ২৮ ডিসেম্বর সিটি ব্যাংকে খোলা একটি হিসাব ছাড়া নাহিদ ইসলামের আর কোনো ব্যাংক হিসাব নেই বলেও বিবৃতিতে দাবি করা হয়।


আরএস

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!