রাজনীতি

জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার দাবি আখতার হোসেনের

আপডেট: জানু ০২, ২০২৬ : ০৪:১৩ পিএম
জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার দাবি আখতার হোসেনের

জাতীয় পার্টিকে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ আখ্যা দিয়ে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটিকে অযোগ্য ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি বিগত স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থাকে বৈধতা দিয়েছে এবং তা টিকিয়ে রাখতে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে।

আজ শুক্রবার বিকেলে রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে রংপুর–৪ (পীরগাছা–কাউনিয়া) আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই–বাছাইয়ে অংশগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন আখতার হোসেন। আখতার হোসেন বলেন, ‘আইনের প্যাঁচ ব্যবহার করে ফ্যাসিবাদের দোসররা বিভিন্নভাবে পুনর্বাসনের চেষ্টা করতে পারে। আমরা কোনোভাবেই ফ্যাসিবাদের রাজনীতি ও রাজনৈতিক পুনর্বাসন দেখতে চাই না। এ বিষয়ে জনগণ, সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং জাতীয় পার্টিকে আগামী নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করতে হবে।’

তিনি বলেন, গত ১৬ বছরে দেশে যে স্বৈরাচারী শাসন কায়েম হয়েছিল, তা একা একা গড়ে ওঠেনি। এই শাসনব্যবস্থাকে গড়ে তুলতে, বৈধতা দিতে এবং টিকিয়ে রাখতে জাতীয় পার্টি ভূমিকা রেখেছে। ‘স্বৈরাচারের দোসররা যাতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারে, সে দাবি আমরা বারবার সরকারের কাছে জানিয়েছি,’ বলেন তিনি।

নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আখতার হোসেন বলেন, প্রার্থী, তাদের কর্মী এবং সাধারণ জনগণের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত না হলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তাঁর ভাষ্য, ‘এর আগে আমরা দেখেছি, অর্থ ও পেশিশক্তির মাধ্যমে নির্বাচন প্রভাবিত করা হয়েছে। এবারও সেই আশঙ্কা রয়ে গেছে। এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, তফসিল ঘোষণার পরদিন ওসমান হাদি গুলিতে নিহত হয়েছেন। এর আগেও বিভিন্ন সময় সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। দিনে–দুপুরে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটছে। যদিও মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষদিন তুলনামূলকভাবে উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হয়েছে।

আখতার হোসেনের অভিযোগ, চব্বিশের অভ্যুত্থানের সময় জনগণের ওপর গুলিবর্ষণ ও সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। সরকার তাদের গ্রেপ্তার বা বিচারের আওতায় আনতে না পারলে ভবিষ্যতে আরও সহিংসতার আশঙ্কা থেকে যায়।

তিনি বলেন, শুধু নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করলেই হবে না, অপরাধীদের গ্রেপ্তার নিশ্চিত করতে হবে। ‘প্রাণনাশের হুমকি থাকলেও আমরা সত্যের পথ থেকে সরে আসব না। তবে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব,’ বলেন তিনি।

জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট প্রসঙ্গে আখতার হোসেন জানান, সংস্কার বাস্তবায়ন, গণহত্যার বিচার দৃশ্যমান করা এবং দুর্নীতিমুক্ত ও আধিপত্যবাদমুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্যে আট দলীয় জোট একসঙ্গে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সে অনুযায়ী এনসিপি ও জামায়াতের মধ্যে আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চলছে এবং শিগগিরই তা চূড়ান্ত হবে।

এ সময় এনসিপির জেলা আহ্বায়ক আল মামুন, সংগঠক আলমগীর নয়নসহ দলটির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর–৪ আসনে সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন আখতার হোসেন। জোটগত সমঝোতার কারণে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এটিএম আজম খান নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

রিটার্নিং কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রংপুর–৪ আসনে দাখিল করা ১০টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে যাচাই–বাছাই শেষে তিনটি বাতিল করা হয়েছে। বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন—স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ আলম বাশার, মো. জয়নুল আবেদিন এবং জাতীয় পার্টির (আনিস–রুহুল) মো. আবদুস ছালাম।

এ ছাড়া যাচাই–বাছাই শেষে বিএনপির মোহাম্মদ এমদাদুল হক ভরসা, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী)-এর প্রগতি বর্মণ তমা, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আবু সাহমা, এনসিপির আখতার হোসেন, বাংলাদেশ কংগ্রেসের উজ্জল চন্দ্র রায়, জাতীয় পার্টির আবু নাসের শাহ মো. মাহবুবার রহমান এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. জাহিদ হোসেনকে বৈধ প্রার্থী ঘোষণা করা হয়।


আরএস

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!