বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের জয়ের চেয়ে হারার রেকর্ডই বেশি—এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকের জয় হবে বলে তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস।
আজ শনিবার ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, গত ১৫ বছরে তরুণ সমাজকে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ ও ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’-এর কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এর কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এখনো আগের মতোই রয়ে গেছে। ভবিষ্যতে যারা সরকার গঠন করবে, তারা যেন একটি বাস্তব ডিজিটাল বাংলাদেশ উপহার দেয়—যেখানে এই ধরনের জটিলতা থাকবে না।
ঢাকা-৮ আসনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এই আসনে ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে জনগণ তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবে। সবাইকে শাপলা কলি প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ঢাকা-৮ আসনে নীতিনির্ভর ও সুস্থ নির্বাচন হবে বলে তাঁরা আশা করছেন। সেখানে পেশিশক্তি কিংবা মাফিয়াতন্ত্রের কোনো মহড়া হবে না। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার ঘাটতি রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর দাবি, দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা নিরাপত্তা ঝুঁকিতে আছেন। প্রশাসন আরও সক্রিয় হলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি আরও বলেন, মির্জা আব্বাসের জয়ের চেয়ে হারার রেকর্ড বেশি। এবার ইনশা আল্লাহ শাপলা কলিরই জয় হবে—এই বিশ্বাস ও আশার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
মনোনয়ন যাচাই–বাছাই প্রসঙ্গে এনসিপির এই নেতা বলেন, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বিভিন্ন আসনে প্রার্থী দিয়েছে। মনোনয়ন যাচাই–বাছাই কার্যক্রম শেষ হলে সব সমস্যা সমাধান হবে বলে তাঁরা আশা করছেন। যাচাইয়ে টিকে থাকা প্রার্থীদের নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে সরকার গঠনের পথে এগিয়ে যেতে চান তাঁরা।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশনকে কার্যত দৃশ্যমান পাওয়া যাচ্ছে না। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পোস্টার ও শোডাউন হলেও কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। বরং কমিশনের একজন সদস্য বিধিবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, যা দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, যদি কমিশন দায়িত্ব পালনে কোথাও চাপ বা অসহায়ত্ব অনুভব করে, তাহলে জনগণের সামনে আসা উচিত। না হলে এই ধরনের আচরণের জন্য তাদের লজ্জা পাওয়া উচিত এবং দ্রুত পদত্যাগ করা উচিত।
আরএস
No comments yet. Be the first to comment!