রাজনীতি

‘নতুন বাংলাদেশ’ এর রূপরেখা তুলে ধরলেন জামায়াত আমির

আপডেট: জানু ২০, ২০২৬ : ০৫:১৯ এএম ১২
‘নতুন বাংলাদেশ’ এর রূপরেখা তুলে ধরলেন জামায়াত আমির

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি নতুন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক রূপরেখা তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, দেশের প্রধান চ্যালেঞ্জ এখন শুধু টিকে থাকা নয়; স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে বড় লক্ষ্য। নতুন বাংলাদেশ হবে ন্যায়বিচার ও মর্যাদার, যেখানে দুর্নীতির বিরুদ্ধে থাকবে শূন্য সহনশীলতা নীতি।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীতে কূটনৈতিক প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষাবিদ, শিল্পোদ্যোক্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে আয়োজিত ‘পলিসি সামিট–২০২৬’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস একটি দীর্ঘ ও অসমাপ্ত সংগ্রামের ইতিহাস। ১৯৪৭ সালের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল রাজনৈতিক স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক মুক্তি ও সামাজিক ন্যায়বিচার। তবে পাঁচ দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সেই লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জিত হয়নি।

তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতা ও কর্তৃত্ববাদী চর্চার কারণে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে। জবাবদিহির অভাব তৈরি হয়েছে, সংকুচিত হয়েছে নাগরিকদের কণ্ঠস্বর। এই প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে তরুণদের নেতৃত্বে জনগণ আবারও নিজেদের অধিকার ও ভবিষ্যৎ পুনরুদ্ধারের দাবিতে দাঁড়িয়ে যায়।

জামায়াত আমির বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী শাসনের একটি অন্ধকার অধ্যায় পার করে আমরা এখন গণতান্ত্রিক রূপান্তরের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি। তবে এই পথে বড় বড় চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে।’

অর্থনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি হলেও কর্মসংস্থানের মান কমে গেছে। বেকারত্ব ও মূল্যস্ফীতি মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলছে। অধিকাংশ মানুষ অনানুষ্ঠানিক ও অনিরাপদ খাতে কাজ করছেন। শিক্ষিত তরুণরা শিক্ষা থেকে কর্মসংস্থানে রূপান্তর ঘটাতে পারছেন না, আর নারীদের ক্ষেত্রেও বৈষম্য ও প্রতিবন্ধকতা রয়ে গেছে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শুধু প্রবৃদ্ধি যথেষ্ট নয়। মানুষের জীবনে নিরাপত্তা, মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সক্ষমতা নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত অর্থনৈতিক সাফল্যের প্রকৃত মাপকাঠি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ এ দেশের জনগণ। দেশের ভেতরের শ্রমজীবী মানুষ এবং বিদেশে কর্মরত প্রবাসীরা অর্থনীতিকে সচল রাখছেন। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স শুধু অর্থ নয়, বরং দক্ষতা ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতারও বড় উৎস।

নারীদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, নারীদের পূর্ণ ও কার্যকর অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। এটি ন্যায়ের প্রশ্ন হওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রয়োজনও।

সুশাসনের বিষয়ে জামায়াত আমির বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি বাস্তবায়ন করা হবে। অতীতে জামায়াতের নেতৃত্বে পরিচালিত মন্ত্রণালয়গুলোতে দুর্নীতিমুক্ত ও দক্ষ প্রশাসনের দৃষ্টান্ত ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র ও নাগরিক, সরকারি ও বেসরকারি খাত এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গড়ে উঠবে।

অনুষ্ঠানের শেষ বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘ইনসাফ, মর্যাদা ও সমৃদ্ধির ভিত্তিতে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়াই আমাদের লক্ষ্য। জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না।’


আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!