রাজনীতি

রাজনীতি আমাদের পেশা নয়, কর্তব্য হিসেবে গ্রহণ করেছি: জামায়াত আমির

আপডেট: জানু ২০, ২০২৬ : ০৪:৫৫ পিএম ১৭
রাজনীতি আমাদের পেশা নয়, কর্তব্য হিসেবে গ্রহণ করেছি: জামায়াত আমির

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, রাজনীতি তাঁদের কাছে কোনো পেশা বা নেশা নয়; এটি একটি দায়িত্ব ও কর্তব্য। তিনি বলেন, ‘রাজনীতি আমাদের পেশা নয়। আমরা দুনিয়ার জন্য রাজনীতি করি না। দায়িত্ববোধ থেকেই আমরা রাজনীতি গ্রহণ করেছি।’

আজ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বলরুমে জামায়াত আয়োজিত দিনব্যাপী ‘পলিসি সামিট ২০২৬’-এর সমাপনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অতীতে দেশকে লুটপাট করে নিঃস্ব করে ফেলা হয়েছে। ‘আমরা পেয়েছি একটি কঙ্কাল। সেই কঙ্কাল নিয়েই আমাদের সামনে এগোতে হবে। কঙ্কাল বাংলাদেশকে জীবন্ত বাংলাদেশে পরিণত করাই আমাদের লক্ষ্য,’ বলেন তিনি। স্বৈরশাসনের অবসান ঘটলেও দেশ থেকে এখনো স্বৈরমানসিকতা পুরোপুরি দূর হয়নি উল্লেখ করে তা নির্মূলে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি।

দেশের উন্নয়নে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘প্রবাসীদের দুটি রেমিট্যান্স দরকার—একটি আর্থিক, অন্যটি বুদ্ধিবৃত্তিক। শুধু অর্থ নয়, আমাদের ইনটেলেকচুয়াল রেমিট্যান্সও প্রয়োজন।’ প্রবাসীদের দেশে ফিরে অবদান রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দুই হাত বাড়িয়ে আপনাদের বুকে জড়িয়ে নিতে চাই।’

নিজের বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দুটি মূল লক্ষ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রাথমিক স্তর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত নৈতিকতা ও পেশাদারিত্বভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং সমাজের সর্বস্তরে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করাই জামায়াতের অগ্রাধিকার। তাঁর ভাষায়, ‘বিচারের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তির পথ-পদবি বা প্রভাব দেখা যাবে না। সবার জন্য সমান বিচার নিশ্চিত করতে হবে।’

আগামী প্রজন্মের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে জামায়াত আমির বলেন, দেশ দীর্ঘদিন দুর্নীতি ও দুঃশাসনের ভারে চাপে ছিল। ‘সেই অধ্যায় থেকে দেশকে টেনে তুলতে চাই,’ বলেন তিনি।

ক্ষমতায় গেলে জামায়াতের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা বিলাসী জীবনযাপন করবেন না বলেও মন্তব্য করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘বৈধ সুযোগ-সুবিধার মধ্যে যেটুকু না নিলেই নয়, শুধু সেটুকুই গ্রহণ করা হবে। জনগণের চোখের কোনায় সামান্য হাসি ফুটলেই সেটাই হবে আমাদের সার্থকতা।’

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা, গবেষক, অর্থনীতিবিদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ ও সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, মাওলানা আ.ন.ম. শামসুল ইসলাম এবং সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ কেন্দ্রীয় নেতারা এতে অংশ নেন।


আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!