বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহসব ধর্মের মানুষ দীর্ঘকাল ধরে শান্তিতে বসবাস করছে এবং আগামীতেও আমরা সবাই মিলেমিশে শান্তিতে থাকতে চাই।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রকে পুনর্গঠন ও মেরামত করতে হলে সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে এগোতে হবে এবং হাজার বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ভবিষ্যতেও বজায় রাখতে হবে। শুক্রবার ভোরে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের পাঁচরুখী বেগম আনোয়ারা ডিগ্রি কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। এটি সিলেট থেকে শুরু হওয়া প্রথম দিনের নির্বাচনী সফরের শেষ সমাবেশ ছিল।
তারেক রহমান বলেন, বিগত ১৫ বছরে দেশে এমন কোনো নির্বাচনী জনসভা হয়নি এবং মানুষ ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি। এবার আমাদের সামনে সেই সুযোগ এসেছে। দেশকে নিরাপদ করতে হলে ভোটের অধিকার ও কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। জনগণের মূল কাজ হচ্ছে সঠিক ব্যক্তিকে নির্বাচন করা।
বিএনপি চেয়ারম্যান আরও জানান, দেশের মানুষ এখন ভালো পরিবর্তন ও নিরাপদ রাষ্ট্র চায়, যেখানে সবাই নিরাপদে বসবাস, ব্যবসা-বাণিজ্য ও চলাচল করতে পারবে। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও শহীদদের ত্যাগের মাধ্যমে ফিরে পাওয়া ভোটাধিকার আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে।
ভোট নিয়ে নানা ষড়যন্ত্রের বিষয়ে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘একটি বাহিনী মা-বোনদের কাছ থেকে এনআইডি ও মুঠোফোন নম্বর সংগ্রহ করছে। প্রবাসীদের ব্যালট দখল করা হয়েছে। সকলকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।’
তিনি ক্ষমতায় এলে দেশের লাখ লাখ বেকার তরুণের জন্য নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দেন। এছাড়া দরিদ্রদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর পাশাপাশি জলাবদ্ধতা নিরসন ও খাল খননের কর্মসূচি শুরু করার ঘোষণা দেন।
বক্তব্যের শেষে তিনি ধানের শীষ ও খেজুরগাছ প্রতীকের প্রার্থীদের জয়ী করার জন্য ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
জনসভায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মামুন মাহমুদের সভাপতিত্বে নারায়ণগঞ্জ-১ থেকে ৪ পর্যন্ত বিভিন্ন আসনের প্রার্থীর সঙ্গে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতৃবৃন্দ এবং অঙ্গসংগঠনের কর্মী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!