রাজনীতি

মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস সামাজিকভাবে প্রতিহত করতে হবে: মির্জা আব্বাস

আপডেট: জানু ২৫, ২০২৬ : ০৪:৫৭ এএম ১০
মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস সামাজিকভাবে প্রতিহত করতে হবে: মির্জা আব্বাস

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনের ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী মির্জা আব্বাস বলেছেন, মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস একার পক্ষে দমন করা সম্ভব নয়। এসব অপরাধ সামাজিকভাবে প্রতিহত করতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটের মিলনায়তনে মতিঝিল সরকারি বালক বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের আয়োজনে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি সাবেক শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। মির্জা আব্বাস নিজেও বিদ্যালয়টির সাবেক ছাত্র।

মির্জা আব্বাস বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে চাঁদাবাজি, মাদক ও সন্ত্রাসকে পরিকল্পিতভাবে লালন করা হয়েছে। গত ৫ আগস্টের পর দুই মাস তাঁর এলাকায় চাঁদাবাজি বন্ধে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি। সে সময় একটি বিশেষ টিম গঠন, হটলাইন চালু এবং দ্রুত সাড়া দিতে গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। কোনো অভিযোগ পেলেই পুলিশ নিয়ে ভুক্তভোগীর পাশে দাঁড়ানো হয়েছে।

তিনি বলেন, ওই দুই মাস এলাকা ছিল শান্ত। কিন্তু দায়িত্ব প্রত্যাহারের পর পুলিশের তৎপরতাও কমে যায়। এরপর আবার চাঁদাবাজি শুরু হয়। এতে প্রায় সব রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্টতা তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনে বিএনপির সব নেতাকর্মী অংশ নিয়েছে। তবে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ আর ২০২৪ সালের আন্দোলন এক নয়। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ হয়েছে, আর ২০২৪ সালে হয়েছে স্বৈরাচার পতনের আন্দোলন। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর আওয়ামী লীগের শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে বিএনপিকে বড় ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে—অনেক নেতাকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন, অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন।

মাদক কারবারিদের চিহ্নিত করে সমাজ থেকে আলাদা করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, একটি জাতিকে ধ্বংস করতে হলে প্রথমেই শিক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করা হয়। তাঁর অভিযোগ, বিগত সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে।

নতুন প্রজন্মের সুস্থ বিকাশের জন্য খেলাধুলা ও বই পড়ার ওপর জোর দেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ‘এক ধরনের মাদক’ হিসেবে উল্লেখ করে মির্জা আব্বাস বলেন, এটি অনেক তরুণকে বিপথগামী করে তুলছে, যা ভবিষ্যতের জন্য উদ্বেগজনক।


আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!