রাজনীতি

রাজনৈতিক মতাদর্শ বিবেচনায় প্রিজাইডিং কর্মকর্তা নির্ধারণের অভিযোগ

আপডেট: ফেব ০৩, ২০২৬ : ০৫:২৮ পিএম
রাজনৈতিক মতাদর্শ বিবেচনায় প্রিজাইডিং কর্মকর্তা নির্ধারণের অভিযোগ

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা (প্রিজাইডিং অফিসার) নির্ধারণে রাজনৈতিক মতাদর্শ বিবেচনা করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির দাবি, এতে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীতে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন এনসিপির মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজিব ভুঁইয়া।

সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ বলেন, প্রিজাইডিং কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারি ও আধা-সরকারি চাকরিজীবীদের রাজনৈতিক মতাদর্শ সম্পর্কে বিভিন্নভাবে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, মধ্যম ও উচ্চপর্যায়ের কিছু ব্যক্তির সহায়তায় এ ধরনের তথ্য নেওয়া হচ্ছে এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতেই প্রিজাইডিং কর্মকর্তা নির্ধারণ করা হচ্ছে। অথচ কোনো রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার এভাবে তথ্য সংগ্রহ করার কথা নয়।

তিনি বলেন, অতীতে রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে চাকরি ও পদোন্নতিতে প্রভাব পড়তে দেখা গেছে। এবার সেই ধারা প্রিজাইডিং কর্মকর্তা নিয়োগেও দেখা যাচ্ছে। এতে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের কর্মকর্তারা দায়িত্বে থাকলে নির্বাচনে কারচুপি ও ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে।

এনসিপির এই নেতা অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন ও সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এ বিষয়ে নির্লিপ্ত রয়েছে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় যেসব প্রতিষ্ঠান এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। তা না হলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেই তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে।

আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, বিভিন্ন স্থানে যারা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং নিরপেক্ষভাবে কাজ করছেন, কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট দলকে সহযোগিতা করছেন না—তাদের ওপর নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করে প্রত্যাহার (উইথড্র) করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিরোধী দলগুলোর চিঠির কোনো জবাব পাওয়া যায় না। অথচ কোনো প্রার্থীকে শোকজ করার ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট দলের প্রার্থীদের দ্রুত ছাড় দেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ একাধিক দপ্তর থেকে একটি দলকে সুস্পষ্টভাবে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। নিরপেক্ষ কর্মকর্তাদের মাঠ থেকে সরিয়ে পছন্দের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দিয়ে নির্দিষ্ট প্রার্থীকে বিজয়ী করার চেষ্টা চলছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!