নীলফামারী প্রতিনিধি:
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ সামনে রেখে নীলফামারী–২ আসনে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। প্রশাসনের একাংশের পক্ষপাতমূলক আচরণ এবং জামায়াত ইসলামী সমর্থিত কর্মীদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শাহরিন ইসলাম।
রোববার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগে তিনি দাবি করেন, নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর পর থেকেই তার নেতাকর্মীদের টার্গেট করে প্রশাসনিক চাপ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে জামায়াত ইসলামী কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে বিএনপির প্রচার কার্যক্রমে হামলা, ব্যানার-পোস্টার পুড়িয়ে দেওয়া এবং সংখ্যালঘু ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শনে জড়িত রয়েছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ২২ জানুয়ারি থেকে নির্বাচন কমিশনের বিধি মেনে শান্তিপূর্ণভাবে প্রচারণা চালিয়ে আসলেও পুলিশ, সেনাবাহিনী ও র্যাবের সদস্যরা রাতের আঁধারে বিএনপি সমর্থিত ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের বাড়িতে অবৈধভাবে প্রবেশ করে হুমকি দিচ্ছেন।
ভুক্তভোগী প্রার্থী শাহরিন ইসলাম বলেন, “প্রশাসনের লোকজন রাতের অন্ধকারে আমার কর্মীদের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের ভয় দেখাচ্ছেন, ধানের শীষের পক্ষে কাজ না করার হুমকি দিচ্ছেন। এটা কোনোভাবেই নিরপেক্ষ প্রশাসনের আচরণ হতে পারে না।”
তিনি আরও জানান, ইটখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হেদায়েত আলী শাহ ফকির, চড়াইখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুম রেজা এবং খোকশাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রশান্ত রায়ের বাড়িতে পৃথক পৃথক সময়ে পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা গিয়ে নির্বাচন সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে যুক্ত না থাকার জন্য হুমকি দিয়েছেন।
শুধু প্রশাসনিক চাপই নয়, জামায়াত ইসলামী সমর্থিত “দাঁড়িপাল্লা” প্রতীকের কর্মীদের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন বিএনপি প্রার্থী। তার দাবি, রাতের বেলা নীলফামারী সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিএনপির ব্যানার ও ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলে আগুন দেওয়া হচ্ছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগ হিসেবে তিনি জানান, সনাতন ধর্মাবলম্বী ভোটারদের আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
শাহরিন ইসলাম বলেন, “সংখ্যালঘু ভোটারদের ভয় দেখিয়ে ভোট থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটা সরাসরি ভোটাধিকার হরণের শামিল। প্রশাসনের নীরবতা এই সন্ত্রাসকে আরও উৎসাহিত করছে।”
স্থানীয় বিএনপি নেতারা অভিযোগ করে বলেন, জামায়াত ইসলামী নীলফামারীর কর্মীদের দ্বারা বিএনপির নেতাকর্মীরা বারবার নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এতে করে এলাকায় আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে নীলফামারী–২ আসনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন কঠিন হয়ে পড়বে।
No comments yet. Be the first to comment!