রাজনীতি

নির্বাচনী পথে ছোট ছোট উপহার মানুষের ভালোবাসার নীরব দলিল: নাহিদ ইসলাম

আপডেট: ফেব ০৬, ২০২৬ : ০৫:৩৬ এএম
নির্বাচনী পথে ছোট ছোট উপহার মানুষের ভালোবাসার নীরব দলিল: নাহিদ ইসলাম

নির্বাচনী প্রচারণার পথে ভোটারদের কাছ থেকে পাওয়া ছোট ছোট উপহার মানুষের ভালোবাসার নীরব বহিঃপ্রকাশ—এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী নাহিদ ইসলাম।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনী অভিজ্ঞতা, মানুষের প্রত্যাশা এবং জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি তুলে ধরে বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম লেখেন, নির্বাচন তার জন্য এক নতুন অভিজ্ঞতা। প্রতিদিন ভোরে বের হয়ে সারা দিন রোদ, ধুলো ও ভিড়ের মধ্যে মানুষের সঙ্গে কথা বলেন, হাত মেলান এবং তাদের কথা শোনেন। দিনের শেষে ক্লান্ত শরীর নিয়ে বাড়ি ফেরেন।

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, এই দীর্ঘ প্রচারণার পথে সবচেয়ে সুন্দর অভিজ্ঞতা হচ্ছে মানুষের দেওয়া ছোট ছোট উপহার। কেউ চকলেট দেয়, কেউ আতর, কেউ নিজের হাতে বানানো শাপলা কলি। একজন বোন তার স্ত্রীর জন্য নিজ হাতে তৈরি চুড়ি উপহার দিয়েছেন। আবার কেউ কেউ জোর করে হাতে বা পকেটে কিছু টাকা গুঁজে দেন। তাঁর ভাষায়, এগুলো মানুষের ভালোবাসার নীরব দলিল।

নাহিদ ইসলাম আরও লেখেন, ওসমান হাদীর প্রতি মানুষের যে ভালোবাসা, সেই ভালোবাসার ভাগীদার হিসেবে তাঁরাও হয়ে উঠছেন। মানুষ তাদের নিজের সন্তানের মতো দেখে এবং নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে। ওসমান হাদীর শূন্যতা মানুষের মনে আজও পূরণ হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম লেখেন, বাড্ডা–রামপুরা এলাকাজুড়ে সেই আন্দোলনের চিহ্ন এখনো রয়ে গেছে। অনেক মসজিদ ও মাদ্রাসার দেয়ালে গুলির দাগ দেখিয়েছেন স্থানীয়রা। আন্দোলনের সময় ছাত্রদের সঙ্গে দোকানদার, হকারসহ সাধারণ মানুষ যুক্ত হয়েছিল। অনেক পরিবার আন্দোলনকারীদের আশ্রয় ও খাবার দিয়েছিল।

নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম লেখেন, ১৯ জুলাই বাড্ডা–গুলশান এলাকা থেকে হেঁটে বনশ্রী যাওয়ার পথে গোলাগুলির মধ্যে পড়েন তিনি। তাঁর বাসার সামনে একজন গুলিতে নিহত হন এবং সেদিন রাতেই তিনি নিখোঁজ হন।

পোস্টে তিনি বলেন, বাড্ডা, রামপুরা ও বনশ্রী—এই এলাকাতেই তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা। তবে নির্বাচনী প্রচারণার সময় এলাকাটিকে তিনি নতুন করে চিনছেন। অলি-গলি ও মানুষের সঙ্গে আরও গভীর আত্মীয়তা তৈরি হচ্ছে।

নাহিদ ইসলাম লেখেন, প্রতিদিন মানুষের কাছ থেকে শোনেন বেঁচে থাকার সংগ্রাম, কষ্ট আর নানা প্রত্যাশার কথা—কেউ চাকরি চান, কেউ চিকিৎসার সহায়তা, কেউ এলাকার রাস্তা বা গ্যাস সংকটের সমাধান চান। তাঁর মতে, ঢাকা শহরের বহু সমস্যাই এই একটি এলাকায় যেন একত্র হয়েছে।

তিনি আরও লেখেন, ভোটের সময় রাজনীতিবিদরা আসে—এই অভিযোগ মানুষ করলেও, তারপরও তারা কথা বলে, প্রত্যাশা রাখে এবং নতুন দিনের স্বপ্ন দেখে। নির্বাচনের ফলাফল যা-ই হোক, মানুষের এই ভালোবাসা ও নিজের এলাকাকে নতুন করে চেনাই তাঁর কাছে রাজনীতির সবচেয়ে বড় অর্জন হয়ে থাকবে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!