জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ঢাকা–১১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যর্থ হলে ৫ আগস্টও ব্যর্থ হয়ে যাবে। তিনি বলেন, ৫ আগস্ট যেভাবে সফল করা হয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারিকেও সেভাবেই সফল করা হবে।
আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর বাড্ডায় এনসিপির নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।
জনসভায় নাহিদ ইসলাম ঢাকা–১১ আসনের অবকাঠামোগত সংকটের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই আসনে পর্যাপ্ত খেলার মাঠ, স্কুল ও সরকারি হাসপাতাল নেই। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রায় পুরোপুরি বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভরশীল। ঢাকা–১১ আসনে সরকারি উচ্চবিদ্যালয় নেই এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে মাত্র ১৫টি।
বর্ষাকালে জলাবদ্ধতার সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই এলাকার প্রায় ৬০ শতাংশ সড়ক তলিয়ে যায়। মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ এলাকা পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার আওতায় আছে। বাকি অংশ অপরিকল্পিত ড্রেনেজ, নর্দমা ও ভরাট হওয়া খালের ওপর নির্ভরশীল। রামপুরা ও শাহজাদপুর খালসহ এলাকার একাধিক খাল দখল ও ভরাটের অভিযোগও করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ঢাকা–১১ আসনের উন্নয়ন না হওয়ার পেছনে প্রধান কারণ রাজনৈতিক। তাঁর ভাষায়, এই রাজনৈতিক সমস্যার মূল হচ্ছে ভূমিদস্যুতা। তিনি অভিযোগ করেন, শত শত মানুষকে জমি হারিয়ে নিঃস্ব হতে হয়েছে, সরকারি খাসজমি ও জলাশয় দখল করে ভরাট করা হয়েছে।
ক্ষমতায় এলে এলাকাভিত্তিক অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ভূমিহীন হয়ে পড়া মানুষদের জমি ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। জমি ফেরত দেওয়া সম্ভব না হলে ন্যায্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি ভূমিদস্যুদের সিন্ডিকেট নির্মূলের অঙ্গীকার করেন তিনি।
নির্বাচন প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, এনসিপি শুধু ঢাকা–১১ আসনে নয়, সারা দেশে বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। তিনি জানান, ১১ দলীয় ঐক্যজোটের নেতৃত্বে আগামী দিনের বাংলাদেশ পরিচালিত হবে বলে তারা বিশ্বাস করেন। এ সময় তিনি ভোটারদের নিজ নিজ এলাকায় ঐক্যজোট–সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
শেষে তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রবিরোধী যেকোনো পরিকল্পনা প্রতিহত করতে ১২ ফেব্রুয়ারি গুরুত্বপূর্ণ দিন। ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার জন্য তরুণ সমাজ প্রস্তুত রয়েছে উল্লেখ করে তিনি আবারও বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যর্থ হলে ৫ আগস্ট ব্যর্থ হয়ে যাবে। তাই ১২ ফেব্রুয়ারি বিজয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!