কোনো ব্যক্তি, পরিবার কিংবা দলের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য নয়; দেশের ১৮ কোটি মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্যই চলমান রাজনৈতিক লড়াই—এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও ঢাকা–১৫ আসনের সংসদীয় প্রার্থী ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট নির্ধারণ করবে দেশ আজাদির পথে এগোবে, নাকি আবারও পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হবে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁও থেকে মিরপুর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী গণমিছিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই নির্বাচন শুধু সরকার গঠনের জন্য নয়; এই ভোটের মাধ্যমে জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে—দেশে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও মামলাবাজির রাজনীতি চলবে কি না এবং দেশের মায়েরা নিরাপত্তা ও মর্যাদা পাবেন কি না।
বক্তৃতার শুরুতে তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের গণআন্দোলনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে গত সাড়ে ১৫ বছরে রাজনৈতিক নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার হয়ে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের স্মরণ করেন। কঠিন সময়ে নির্যাতিত মানুষের পাশে যারা দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, দেশের মানুষ পরিবর্তনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। এই নির্বাচন হবে ‘আজাদি’ বা মুক্তির পক্ষে, না কি ‘গোলামি’ বা পরাধীনতার পক্ষে—সে সিদ্ধান্ত নেবে জনগণই। তাঁর ভাষায়, এটি হবে ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে এবং সিন্ডিকেট, লুটপাট ও অর্থপাচারের বিরুদ্ধে একটি গণরায়।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, যারা দুর্নীতি করে দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রশ্নেও এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে যেন নতুন কোনো লুটেরা শ্রেণি গড়ে না ওঠে, সে জন্য দেশবাসীকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের সুযোগ পেলে নিজেদের নয়, বরং দেশের ১৮ কোটি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের অঙ্গীকার করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ‘আমি কোনো দলের বিজয় চাই না, আমি চাই ১৮ কোটি মানুষের বিজয়।’ অতীতে ব্যক্তি বা পরিবারকেন্দ্রিক শাসন দেশের মানুষের শান্তি, কর্মসংস্থান ও নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, জামায়াত কোনো গোষ্ঠীর শাসন কায়েম করতে চায় না; বরং একটি প্রকৃত জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠাই তাদের লক্ষ্য। দেশবাসী ও দলীয় নেতা–কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ঐক্যের মাধ্যমেই কাঙ্ক্ষিত বিজয় অর্জন সম্ভব হবে।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!