বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, অতীতে রাষ্ট্র পরিচালনার সময় অনিচ্ছাকৃত ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে সে জন্য তিনি দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করছেন। তিনি বলেন, অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে অর্জনগুলোকে ভিত্তি করে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান তিনি।
সোমবার সন্ধ্যায় জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। ভাষণটি বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে সম্প্রচার করা হয়।
তারেক রহমান বলেন, জনগণই রাষ্ট্রের মালিক। কিন্তু বিগত সময়ে রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা সাধারণ মানুষের পরিবর্তে একটি গোষ্ঠীর হাতে কুক্ষিগত ছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন। এবারের নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ যেন ন্যায্যভাবে রাষ্ট্রীয় অধিকার ও সুবিধা ভোগ করতে পারে, বিএনপি সেটি নিশ্চিত করতে চায় বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কথা বিবেচনায় রেখে দল ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। প্রায় ৪০ লাখ প্রতিবন্ধী মানুষের কল্যাণে বিশেষ কর্মসূচি নেওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি। পাশাপাশি দেশের ইমাম, খতিব, মোয়াজ্জিন এবং অন্যান্য ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের জন্য রাষ্ট্রীয় আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করার কথাও বলেন।
প্রশাসন বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করা হবে না। নিয়োগ ও পদোন্নতিতে মেধা ও যোগ্যতাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সময়মতো জাতীয় পে-স্কেল ঘোষণা ও বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রসঙ্গ তুলে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, দেড় কোটির বেশি প্রবাসী দেশে বৈদেশিক আয় পাঠাচ্ছেন। তাঁদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এ কার্ডের মাধ্যমে বিনিয়োগ সুরক্ষা ও বিমানবন্দরে হয়রানি কমানোসহ বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া হবে। বিদেশে কাজে যেতে ইচ্ছুক দক্ষ কর্মীদের সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
ধর্মীয় সম্প্রীতির বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি এমন একটি বাংলাদেশ চায়, যেখানে সব ধর্ম ও বিশ্বাসের মানুষ নিরাপদে বসবাস করতে পারবেন। তিনি বলেন, “ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার”—এই নীতিতে দল বিশ্বাসী। ধর্মীয় উগ্রবাদ বা স্বৈরাচারের কোনোটি জনগণ চায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ভাষণে তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ভূমিকার উল্লেখ করেন। খালেদা জিয়া দেশের স্বার্থে আপস করেননি এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে কাজ করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
শেষে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভোটারদের কেন্দ্রে গিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান। তাঁর ভাষ্য, ধানের শীষের বিজয় মানে বাংলাদেশের বিজয় এবং স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!