রাজনীতি

এটিএম আজহার প্রসঙ্গে অস্বস্তি বাড়ছে, জামায়াতে কি নীরব বিভাজন?

আপডেট: ফেব ১১, ২০২৬ : ০১:০৬ পিএম ১৯
এটিএম আজহার প্রসঙ্গে অস্বস্তি বাড়ছে, জামায়াতে কি নীরব বিভাজন?
রাজনৈতিক কর্মসূচিতে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা (ফাইল ছবি)

আপিল বিভাগের রায়ে খালাস পাওয়ার পর এটিএম আজহারুল ইসলামের নাম আবারও জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিতে গুরুত্বের সঙ্গে উচ্চারিত হচ্ছে। তবে বিষয়টি কেবল একজন নেতার আইনি মুক্তি নয়—দলের ভেতরে নেতৃত্ব, আদর্শিক অবস্থান ও ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে।

দলীয় অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, এটিএম আজহারকে ঘিরে দুই ধরনের মনোভাব স্পষ্ট। একটি অংশ মনে করে, দীর্ঘ কারাবাস ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তাঁকে আদর্শিকভাবে শক্ত অবস্থানের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছে। তারা মনে করেন, পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দলের ঐতিহ্যগত অবস্থান পুনর্গঠনে তাঁর মতো নেতার প্রয়োজন রয়েছে।

অন্যদিকে, বর্তমান নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ একটি অংশ কৌশলগত পরিবর্তনকে সময়ের দাবি হিসেবে দেখছে। তাদের মতে, রাজনীতিতে টিকে থাকতে হলে ভাষা, উপস্থাপন ও জনসংযোগের কৌশলে পরিবর্তন আনতেই হবে। এই অবস্থানকে কেন্দ্র করেই মূলত ভেতরে ভেতরে মতপার্থক্য বাড়ছে।

দলীয় প্রতীক, স্লোগান ও জনসমাবেশের ভাষা নিয়ে সাম্প্রতিক পরিবর্তনও আলোচনায় এসেছে। তৃণমূলের কিছু নেতার দাবি, এসব পরিবর্তন দলের ঐতিহ্যবাহী আদর্শিক পরিচয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। যদিও কেন্দ্রীয়ভাবে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

সাম্প্রতিক সহিংস রাজনৈতিক ঘটনার পর কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া না আসায় মাঠপর্যায়ে প্রশ্ন উঠেছে বলেও জানা গেছে। কয়েকজন নেতাকর্মীর মতে, নীরব কৌশল কর্মীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়াতে পারে।

এটিএম আজহার নিজে এখনো প্রকাশ্যে কোনো রাজনৈতিক অবস্থান জানাননি। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তাঁর সক্রিয় প্রত্যাবর্তন হলে তা দলের অভ্যন্তরীণ শক্তির ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, জামায়াতে ইসলামীর সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ—আদর্শিক অবস্থান ধরে রেখে রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সমন্বয় করা। এই সমন্বয় কতটা সফল হবে, সেটিই নির্ধারণ করবে দলটি ঐক্যবদ্ধ থাকবে নাকি ভেতরে ভেতরে বিভাজন আরও স্পষ্ট হবে।

Tags:
জামায়াত নেতৃত্ব সংকট এটিএম আজহারুল ইসলাম রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!