রাজনীতি

ভোরে সড়ক পরিষ্কারে শফিকুর রহমান, ‘মানসিক আবর্জনাও দূর করতে চাই’

আপডেট: ফেব ১৮, ২০২৬ : ০৮:৪৬ এএম
ভোরে সড়ক পরিষ্কারে শফিকুর রহমান, ‘মানসিক আবর্জনাও দূর করতে চাই’

ফজরের নামাজ শেষে মসজিদের সামনে নিজ হাতে ঝাড়ু দিয়ে দিন শুরু করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, রাস্তাঘাট পরিষ্কার করার মধ্য দিয়ে সমাজের ‘মানসিক আবর্জনা’ দূর করার বার্তাই দিতে চান।

আজ বুধবার সকালে রাজধানীর মিরপুরের মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় মূল বালিকা শাখা–সংলগ্ন বাইতুন নূর মসজিদ এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে অংশ নেন শফিকুর রহমান। ফজরের নামাজ আদায়ের পর সঙ্গীদের নিয়ে প্রায় ৩০ মিনিট সড়ক ঝাড়ু দেন তিনি।

পরিচ্ছন্নতা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, গতকাল সংসদ সদস্য ও সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে তাঁরা শপথ নিয়েছেন। সংসদে গিয়ে দেশের জন্য ইতিবাচক কাজ করার পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন স্তরের ‘আবর্জনা’ দূর করতে চান তাঁরা। তাঁর ভাষায়, “রাস্তার ময়লা–আবর্জনা থেকে শুরু করে মানুষের মনের আবর্জনাও দূর করতে চাই।”

শফিকুর রহমান বলেন, একটি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ মানুষের মনোজগতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এতে মানুষের দায়িত্ববোধ ও সমাজের প্রতি দরদ বাড়ে। “আমরা একটি পরিচ্ছন্ন সমাজ গড়তে চাই—যেখানে পরিবেশও সুন্দর থাকবে, মনও সুন্দর থাকবে,” বলেন তিনি।

এ কর্মসূচিকে ‘লোকদেখানো নয়’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর দলীয় ইউনিটগুলোকে অন্তত আধা ঘণ্টা পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নিতে বলা হবে। “আমরা যদি নিজ নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখি, তাহলে দেশটাও পরিষ্কার থাকবে,” যোগ করেন তিনি।

এলাকাবাসীর প্রতি সহযোগিতা কামনা করে শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনে যাঁরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, সবারই লক্ষ্য ছিল একটি ভালো মিরপুর–কাফরুল গড়া। গণতন্ত্রে পালাবদল স্বাভাবিক—কাজের মাধ্যমে জনগণকে আস্থা দেওয়াই এখন প্রধান দায়িত্ব।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে যে শপথ নেওয়া হয়েছে, সেটিকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া উচিত। “এই নির্বাচন ও বর্তমান অবস্থানের পেছনে যে ঐতিহাসিক আন্দোলনের ভূমিকা আছে, সেটিকে সম্মান জানানো সবার দায়িত্ব,” বলেন তিনি। সরকার উদ্যোগ নিলে বিরোধী দল হিসেবে সহযোগিতা করা হবে, আর না নিলে জনগণের পক্ষে কথা বলা হবে বলেও জানান তিনি।

শফিকুর রহমান বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে তাঁর কাজের শুরু হয়েছে। ঢাকায় থাকলে নিয়মিত এ ধরনের কার্যক্রমে অংশ নেবেন, আর ঢাকার বাইরে থাকলেও সহকর্মীদের নিয়ে কাজ চালিয়ে যাবেন।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!