রাজনীতি

টুকুর বক্তব্য ইতিহাস-ভাষাতত্ত্ব ও গণআকাঙ্ক্ষাকে অস্বীকারের শামিল: জামায়াত

আপডেট: ফেব ২২, ২০২৬ : ০৮:০৯ এএম
টুকুর বক্তব্য ইতিহাস-ভাষাতত্ত্ব ও গণআকাঙ্ক্ষাকে অস্বীকারের শামিল: জামায়াত

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান সম্পর্কিত বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি জানিয়েছে, মন্ত্রীর এই মন্তব্য ইতিহাস, ভাষাতত্ত্ব ও গণআকাঙ্ক্ষার বাস্তবতাকে অস্বীকার করার শামিল।

আজ রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এই উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে জুবায়ের বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আলোচনা সভায় মন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা অসঙ্গত। তিনি উল্লেখ করেন, ‘ইনকিলাব’ শব্দটি যদিও আরবি উৎসভিত্তিক, তবুও উপমহাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন, স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রাম এবং গণঅধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে বহু দশক ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ভাষা জনগণের ব্যবহারে সমৃদ্ধ ও বিকশিত হয়।

জুবায়ের আরও বলেন, বাংলা ভাষা বিভিন্ন উৎস থেকে শব্দ গ্রহণ করে সমৃদ্ধ হয়েছে। কোনো শব্দের উৎপত্তিকে কেন্দ্র করে তাকে ‘বাংলাবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া ভাষাবিজ্ঞানের মৌলিক নীতির পরিপন্থী। এমন বিভাজন সৃষ্টি করে জাতিকে দ্বিধাবিভক্ত করার চেষ্টা কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তির পক্ষে কাম্য নয়।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর একচেটিয়া স্লোগান নয়; এটি শোষণ, অন্যায় ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক। দেশের ছাত্র-জনতা যখন অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়, তাদের কণ্ঠরোধ করার প্রচেষ্টা গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মন্ত্রী বলেছেন এই স্লোগান উচ্চারিত হলে তার ‘রক্তক্ষরণ’ হয়। জুবায়ের প্রশ্ন তোলেন, জনগণের অধিকার হরণ, দুর্নীতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের অনিয়ম কেন মন্ত্রীর হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটায় না। বাস্তবে এসবই জাতির হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটায়।

জামায়াতে ইসলামী সরকারকে আহ্বান জানিয়ে বলেছে, জনগণের ন্যায্য প্রতিবাদের ভাষাকে দোষারোপ না করে জনদুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াই সরকারের দায়িত্ব। দলটি মন্ত্রীর বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে; অন্যথায় জনগণই এর যথাযথ জবাব দেবে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!