সংবিধান সংস্কারের দাবিতে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্দোলন ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই।
বুধবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে সংবিধান ইস্যুতে অসন্তোষ প্রকাশ করে সংসদের অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করে বিরোধী দল।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আন্দোলন ছাড়া আমাদের করার আর পথ কী আছে? আমরা আন্দোলন করব, জনগণকে সঙ্গে নিয়েই করব।” তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বিরোধী জোটের ১১ দল একসঙ্গে বসবে বলেও জানান তিনি।
ব্রিফিংয়ে তিনি অভিযোগ করেন, গণভোটে জনগণ সংবিধান সংশোধনের নয়, বরং সংস্কারের পক্ষে রায় দিলেও তা উপেক্ষা করা হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে সংসদীয় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সংশোধনের প্রস্তাবকে ‘অপ্রাসঙ্গিক’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ একটি বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিলেও বিরোধী দল স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, সেটি সংস্কারভিত্তিক না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। পাশাপাশি সরকার ও বিরোধী দলের সমানসংখ্যক সদস্য রাখার শর্তও দেওয়া হয়েছিল। তবে এ প্রস্তাবে ঐকমত্য না হওয়ায় আলোচনা সেখানেই থেমে যায়।
পরবর্তীতে আইনমন্ত্রী সংসদে আংশিক সম্মতির কথা জানালেও বক্তব্য বিকৃত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “আমি সংবিধান সংস্কারের কথা বলেছিলাম, কিন্তু আমাকে ভুলভাবে উদ্ধৃত করা হয়েছে।”
স্পিকারের কাছে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ চাইলেও সেদিন সময়ের অভাবে তা পাননি বলে জানান তিনি। পরদিন সংসদে বক্তব্য দিয়ে তিনি আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান এবং আলোচনার অগ্রগতি জানতে চান। তবে স্পিকার জানান, প্রস্তাবটি গৃহীত হয়নি, কেবল আলোচনা পর্যায়েই শেষ হয়েছে।
এতে হতাশা প্রকাশ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “আমরা সংকটের সমাধান চেয়েছিলাম, কিন্তু জাতির দেওয়া ম্যান্ডেটকে উপেক্ষা করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, গণভোটের রায় অমান্য করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এ কারণেই তারা ওয়াকআউট করেছেন। একই সঙ্গে জনগণের মতামত চাপা দিতে পরিকল্পিতভাবে একটি নোটিশ আনা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের ইতিহাসে অতীতে যেসব গণভোট হয়েছে, সেগুলোর ফলাফলের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এবার তার ব্যতিক্রম ঘটেছে, যা সংবিধানের মূল ভিত্তি—জনগণের রায়কেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
তিনি বলেন, “সংসদের ভেতরেই বিষয়টির সমাধান হলে ভালো হতো। কিন্তু তা না হওয়ায় এখন আমাদের জনগণের কাছেই ফিরে যেতে হবে।”
আন্দোলনের কর্মসূচি শিগগিরই ঘোষণা করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ১১ দল একত্রে বসে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবে।
শেষে তিনি বলেন, “আমরা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছি, সংসদ ত্যাগ করিনি। আমরা সংসদেরই অংশ। কিন্তু আন্দোলন ছাড়া এখন আর কোনো পথ নেই।”
আরএস-
No comments yet. Be the first to comment!