যথাযথ পরিকল্পনা ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাস চালুর উদ্যোগকে ‘আত্মঘাতী’ বলে মন্তব্য করেছেন Mia Golam Parwar। তিনি বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ কথা বলেন Bangladesh Jamaat-e-Islami-এর সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরওয়ার।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, গত ৩১ মার্চ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক সমন্বয় সভায় ঢাকাসহ সব মহানগরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ক্লাস চালুর যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তা ‘অপরিণামদর্শী ও অনভিপ্রেত’। জ্বালানি সংকটের অজুহাতে শিক্ষার্থীদের ওপর অনলাইন শিক্ষা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, অনলাইননির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার ফলে শিক্ষার্থীরা নানা ধরনের সমস্যার মুখে পড়ে। উচ্চমূল্যের ইন্টারনেট ব্যবহারের কারণে দরিদ্র শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়ে এবং অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পাশাপাশি স্মার্টফোন ব্যবহারের সুযোগে শিশুদের মধ্যে আসক্তি ও নৈতিক অবক্ষয়ের ঝুঁকিও বাড়ে।
তিনি আরও বলেন, শ্রেণিকক্ষভিত্তিক পাঠদান ব্যাহত হলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার নিয়মিত অভ্যাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ অবস্থায় অনলাইন ক্লাস চালু করা মানে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া।
বিবৃতিতে কোভিড-১৯ মহামারির সময়ের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। ‘ন্যাশনাল স্টুডেন্ট অ্যাসেসমেন্ট ২০২২’-এর তথ্য উল্লেখ করে বলেন, সে সময়ে শিক্ষার্থীদের শেখার ঘাটতি তৈরি হয়েছিল এবং অনেকেই শ্রেণি-উপযোগী দক্ষতা অর্জন করতে পারেনি। একই সঙ্গে বিভিন্ন জরিপে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া ও শিশু শ্রম বৃদ্ধির বিষয়টিও উঠে এসেছে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে আবারও অনলাইন ক্লাসে ফিরে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য সুফল বয়ে আনবে না।
বিবৃতিতে তিনি সরকারের প্রতি অনলাইন ক্লাস চালুর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত সশরীরে পাঠদান নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!