ঠাকুরগাঁওয়ে ঘূর্ণিঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে সহায়তা দিতে গিয়ে সরকার কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছে বলে জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি উন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং কোনোভাবেই কৃষক যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
শুক্রবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে ঢেউটিন, চেক ও বরাদ্দপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও জেলা পরিষদের মাধ্যমে সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নেও সহায়তা দেওয়া হয় অনুষ্ঠানে।
জেলা প্রশাসক রফিকুল হকের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি জেলা সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খোদাদাদ হোসেন, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন বিশ্বাস এবং সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুল ইসলামসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশে বড় ধরনের কোনো জ্বালানি সংকট নেই। একটি স্বার্থান্বেষী মহল কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ফায়দা লুটতে চাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে গুজব ও নেতিবাচক প্রচারণায় কান না দেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ঠাকুরগাঁওয়ে ১৩ জন প্রাণ দিয়েছেন। তাঁদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সরকার উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা এগিয়ে নিচ্ছে।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কথাও উল্লেখ করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি জানান, ঠাকুরগাঁওয়ের ভুল্লী ও রুহিয়াকে উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলা, মেডিকেল কলেজ, বিমানবন্দর, সড়ক উন্নয়ন এবং ইপিজেড স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রধানমন্ত্রীর শিল্প উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর সম্প্রতি জেলা সফর করেছেন।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব দেশেও পড়ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার প্রভাব বাংলাদেশেও অনুভূত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, যেকোনো সংকটে জনগণকে সঙ্গে নিয়েই সরকার এগিয়ে যেতে চায় এবং দেশের উন্নয়নধারা অব্যাহত রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!