বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিএনপি এখন “পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদের পথ” অনুসরণ করে এগোচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, দলটি তাদের রাজনৈতিক আচরণ ও অবস্থানের মাধ্যমে সেই পুরোনো দমন-পীড়নের ধারাই পুনরায় প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।
শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “একসময় বিএনপির সঙ্গে আমরা একসঙ্গে মজলুম ছিলাম। কিন্তু এখন তারা এমন পথে হাঁটছে, যা শেষ পর্যন্ত তাদের দুর্বল আওয়ামী লীগে পরিণত করতে পারে।” তিনি আরও বলেন, অতীতে ক্ষমতায় থাকা দল যেভাবে বিরোধীদের ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করত, বিএনপিও এখন একই ধরনের আচরণ শুরু করেছে।
তিনি দাবি করেন, রাষ্ট্রে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে বিএনপি ধারাবাহিকভাবে বিরোধিতা করছে, যা “জাতির সঙ্গে প্রতারণার শামিল”। তাঁর ভাষ্য, দলটি নিজেদের ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচির বিরুদ্ধেও অবস্থান নিচ্ছে।
সমাবেশে তিনি অতীত রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, জনগণের ত্যাগের ফলেই বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। তবে সেই ত্যাগের প্রতি যথাযথ সম্মান দেখানো হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। শহীদ পরিবার ও আহতদের প্রতি রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “যারা আন্দোলনের সুফল ভোগ করছেন, তারা যেন ইতিহাস ভুলে না যান। আন্দোলনের নায়ক এবং সাধারণ মানুষের অবদানকে খাটো করা উচিত নয়।”
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহিংসতার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন স্থানে, এমনকি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও হামলার ঘটনা ঘটছে, যা উদ্বেগজনক। তিনি এ ধরনের ঘটনাকে “ফ্যাসিবাদী আচরণের লক্ষণ” হিসেবে উল্লেখ করেন।
দেশে নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে মানুষ নির্ভয়ে চলাফেরা করতে পারবে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহিংসতার পরিবর্তে শিক্ষার পরিবেশ থাকবে।”
গণভোট ও জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন না হলে রাজনৈতিক আন্দোলন সংসদ ও রাজপথ—উভয় জায়গাতেই চলবে। সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা উপস্থিত ছিলেন।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!