সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে সরকারের সমালোচনা করে মোহাম্মদ শিশির মনির বলেছেন, সরকারি দলের সংবিধান ও সাংবিধানিক আইন বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান ও পড়াশোনার ঘাটতি রয়েছে।
রোববার বিকেলে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন–এ ‘গণভোটের রায় জনগণের সার্বভৌম অভিপ্রায়ের বহিঃপ্রকাশ’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
সেমিনারে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ নিয়েও সমালোচনা করেন শিশির মনির। তিনি বলেন, ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে কোনো গার্মেন্টস ব্যবসায়ীকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর করার নজির নেই। গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় পদে নিয়োগে যোগ্যতার পরিবর্তে দলীয় আনুগত্যকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ্য ও ডক্টরেটধারী অধ্যাপক থাকা সত্ত্বেও দলীয় বিবেচনায় উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। বিচারক নিয়োগের জন্য করা আইনও বর্তমানে কার্যকর করা হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে শিশির মনির বলেন, সংস্কারের প্রস্তাবগুলো সাধারণ মানুষের জন্যও বোধগম্য, কিন্তু সরকার তা বুঝতে পারছে না অথবা এড়িয়ে যাচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, “এত সুন্দর বাংলায় লেখা সংস্কারের প্রস্তাব যদি কেউ না বোঝে, তাহলে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়।”
তিনি বলেন, বিএনপি নেতারা সংবিধান নিয়ে প্রশ্নের জবাবে অতীতের উদাহরণ টানছেন। তবে বাংলাদেশের পঞ্চম সংশোধনী বাতিল ২০১১ সালে সুপ্রিম কোর্ট অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
গুমবিরোধী আইন ও তথ্য অধিকার আইনের সংশোধনী বাতিলের সমালোচনাও করেন এই আইনজীবী। তিনি বলেন, তথ্য অধিকার আইনে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের অডিট প্রতিবেদন ওয়েবসাইটে প্রকাশের বাধ্যবাধকতা ছিল, যা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পারত। সেই সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
গণভোট প্রসঙ্গে শিশির মনির বলেন, গণভোট জনগণের প্রত্যক্ষ মতামত প্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি। গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক সংকট তৈরি করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!