দেশে ইন্টারনেট বা টেলিযোগাযোগ সেবা সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বন্ধ করার সুযোগ চিরতরে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫’ অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। আজ বুধবার উপদেষ্টা পরিষদের ৫২তম বৈঠকে অধ্যাদেশটির অনুমোদন দেওয়া হয়।
সংশোধিত অধ্যাদেশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কোনো পরিস্থিতিতেই ইন্টারনেট বা টেলিযোগাযোগ সেবা বন্ধ করা যাবে না। এই বিধান যুক্ত করা হয়েছে নতুন ধারা ৯৭-এ। ফলে ভবিষ্যতে কোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে দেশব্যাপী কিংবা আংশিক ইন্টারনেট শাটডাউন আর সম্ভব হবে না। সরকার জানিয়েছে, এই সংশোধনের মাধ্যমে নাগরিকের গোপনীয়তা সুরক্ষা, রাষ্ট্রীয় নজরদারিতে জবাবদিহিতা এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
এনটিএমসি বিলুপ্ত, নতুন সংস্থা গঠন
অধ্যাদেশে বহুল আলোচিত ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন্স মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এর পরিবর্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘সেন্টার ফর ইনফরমেশন সাপোর্ট (সিআইএস)’ নামে নতুন একটি প্রতিষ্ঠান গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আইনানুগ ইন্টারসেপশনের ক্ষেত্রে এবার আধা-বিচারিক অনুমোদন ও সংসদীয় তদারকি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সিআইএস নিজে কোনো নজরদারি পরিচালনা করবে না; এটি কেবল কারিগরি সহায়তা দেবে। আধা-বিচারিক কাউন্সিলের অনুমোদন ছাড়া কোনো ইন্টারসেপশন করা যাবে না।
স্পিচ অফেন্সে পরিবর্তন
সংশোধিত আইনে ‘স্পিচ অফেন্স’-সংক্রান্ত বিতর্কিত ধারা পরিবর্তন করা হয়েছে। এখন থেকে কেবল সহিংসতার আহ্বান অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ ক্ষেত্রে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য আনা হয়েছে।
বিটিআরসির স্বাধীনতা ও জবাবদিহিতা
২০১০ সালের সংশোধিত কাঠামো থেকে সরে এসে বিটিআরসির ক্ষমতা ও কার্যপরিধিতে ভারসাম্য আনা হয়েছে। লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় ও বিটিআরসির মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন পুনর্গঠন করা হয়েছে। অধিকাংশ লাইসেন্স ইস্যুর ক্ষমতা আবারও বিটিআরসির হাতে ফিরেছে। একই সঙ্গে বিটিআরসির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতি চার মাসে গণশুনানি আয়োজন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এসব গণশুনানির সিদ্ধান্ত ও অগ্রগতি কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির নেতৃত্বে একটি জবাবদিহিতা কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যক্রম তদারক করবে।
গোপনীয়তা লঙ্ঘনে শাস্তির বিধান
নাগরিকের সিম ও ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন তথ্য ব্যবহার করে অবৈধ নজরদারি বা হয়রানি করলে তা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। ইমেজ ও ভয়েস প্রোটেকশন, সিম ডেটা ও ডিভাইস ডেটা সুরক্ষারও সুনির্দিষ্ট বিধান যুক্ত করা হয়েছে। সরকার বলছে, সংশোধিত এই অধ্যাদেশ টেলিযোগাযোগ খাতকে আরও মানবিক, গণতান্ত্রিক ও বিনিয়োগবান্ধব করে তুলবে। একই সঙ্গে এটি জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (আইটিইউ) আন্তর্জাতিক উত্তম অনুশীলনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।
আরএস
No comments yet. Be the first to comment!