প্রযুক্তি

মোবাইল আমদানিতে শুল্ক কমল, স্টক-লট বৈধ করার সিদ্ধান্ত

আপডেট: জানু ০১, ২০২৬ : ০৫:৫৬ পিএম
মোবাইল আমদানিতে শুল্ক কমল, স্টক-লট বৈধ করার সিদ্ধান্ত

মোবাইল ফোন আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আমদানিকৃত মোবাইল ফোনে শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ কম। একই সঙ্গে বিটিআরসির নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আমদানি করা এবং বর্তমানে ব্যবসায়ীদের হাতে থাকা মোবাইল ফোনগুলোকে কোনো অতিরিক্ত শুল্ক ছাড়াই ‘স্টক-লট’ হিসেবে বৈধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহম্মদ জসীম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশীয়ভাবে মোবাইল ফোন উৎপাদনের ক্ষেত্রে কাস্টমস ডিউটি ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে, যা ৫০ শতাংশ হ্রাস। সরকারের আশা, এই সিদ্ধান্তের ফলে বৈধ আমদানি ও দেশীয় উৎপাদন—দু’টিই উৎসাহিত হবে এবং বাজারে মোবাইল ফোনের দাম সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে।

স্টক-লট বৈধ করার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে জসীম উদ্দিন বলেন, বিটিআরসির নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আমদানি করা এবং বর্তমানে ব্যবসায়ীদের কাছে থাকা মোবাইল ফোনগুলোকে কোনো অতিরিক্ত শুল্ক ছাড়াই এনইআইআর (NEIR) সিস্টেমে অনুমোদন দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে বাজারে থাকা ফোনগুলোকে বৈধ করার সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

তবে আমদানির বিপরীতে দেশীয় উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে—এমন আপত্তি থাকলেও বাস্তবতা বিবেচনায় শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে চলতি অর্থবছরে সরকারের প্রায় ৩৫ কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

প্রবাসীদের বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা হয়েছে উল্লেখ করে জসীম উদ্দিন বলেন, দেশে ফেরার পর প্রবাসীদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন তিন মাস পর্যন্ত বন্ধ করা হবে না। কেউ যদি তিন মাসের কম সময় দেশে অবস্থান করেন, তবে তার ফোন রেজিস্ট্রেশনের প্রয়োজন হবে না। তিন মাসের বেশি অবস্থান করলে পরে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।

তিনি আরও জানান, সাধারণ গ্রাহকদের ক্ষেত্রেও আগামী তিন মাস মোবাইল ফোন ব্লক করা হবে না। এই সময়ের মধ্যে ব্যবসায়ীরা তাদের স্টক-লট নিয়মিত করার সুযোগ পাবেন। এ জন্য বিটিআরসিকে কেবল বৈধ হ্যান্ডসেটের আইএমইআই নম্বরের তালিকা দিতে হবে।

বিটিআরসি ভবনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের রাষ্ট্রবিরোধী ও ন্যক্কারজনক কর্মকাণ্ডে জড়িতরা কোনোভাবেই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। তাদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা হবে।

একই সঙ্গে অবৈধ মোবাইল আমদানি ও বিক্রি ঠেকাতে দেশের স্থলবন্দর, বিমানবন্দর এবং কাস্টমস হাউজগুলোতে কঠোর অভিযান চালানো হবে বলেও জানান তিনি। প্রয়োজনে দেশের বিভিন্ন পাইকারি বাজারেও অভিযান চালিয়ে অবৈধ মোবাইল ফোন জব্দ করা হবে।


আরএস

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!