ঢাকা: রাজধানীর রমনায় অবস্থিত ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত দোয়া ও ইফতার মাহফিলে স্বাগত বক্তব্যে আইইবির ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং প্রকৌশলীদের পেশাগত উন্নয়নে সংগঠনটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরেন আইইবির সম্মানী সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) প্রকৌশলী মুহাম্মদ আহসানুল রাসেল।
তিনি বলেন, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)-এর শিকড় প্রোথিত রয়েছে ব্রিটিশ শাসনামলে। ভারত বিভক্তির পর ১৯৪৮ সালের ৭ মে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে এর একটি শাখা প্রতিষ্ঠিত হয়, যার নাম ছিল ‘ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, পাকিস্তান’। স্বাধীনতার পর ১৯৭১ সালে দেশের নতুন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)’।
তিনি আরও বলেন, আইইবির ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হলো ১৯৭৯ সাল, যখন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আইইবি মিলনায়তন উদ্বোধন করেন। সেই সময় এটি ‘জিয়া অডিটোরিয়াম’ নামে পরিচিত ছিল। দীর্ঘদিন ধরে এই মিলনায়তন প্রকৌশলীদের মিলনমেলা, জ্ঞানচর্চা এবং পেশাগত আলোচনার কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
প্রকৌশলী আহসানুল রাসেল বলেন, প্রকৌশলীদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের সুযোগ তৈরি করতে আইইবির অধীনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠেছে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং স্টাফ কলেজ, বাংলাদেশ (ইএসসিবি)’। ২০০৪ সালে মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়ার চর বাউশিয়ায় প্রায় ২৩.৫ একর জায়গাজুড়ে এই আবাসিক প্রশিক্ষণ ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠিত হয়। এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর বিশেষ আগ্রহ ও আর্থিক সহযোগিতায় গড়ে ওঠা এই আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি বর্তমানে প্রকৌশলীদের দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
তিনি আরও বলেন, আইইবি শুধু একটি পেশাজীবী সংগঠনই নয়; দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ভবিষ্যতেও প্রকৌশলীদের ঐক্যবদ্ধ অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে আইইবি আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
দোয়া ও ইফতার মাহফিলে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, প্রকৌশলী নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন বিভাগের প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে প্রকৌশলীদের অবদান তুলে ধরেন এবং কারিগরি খাতে যোগ্য প্রকৌশলীদের যথাযথ পদায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠান শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয় এবং উপস্থিত অতিথিদের সম্মানে ইফতারের আয়োজন করা হয়।
No comments yet. Be the first to comment!