মেঘনা গ্রুপের উৎপাদিত ব্র্যান্ড ফ্রেশ সুগার-এর একটি নমুনা পরীক্ষায় দেখা গেছে, অনুমোদিত মানের তুলনায় চিনির পরিমাণ কম এবং বিপরীতে সালফার ডাই-অক্সাইডের মাত্রা অনুপযুক্ত। এতে ‘নিম্নমানের চিনি’ তৈরি ও বিপণনের অভিযোগে মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল-র বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নিরাপদ খাদ্য আদালতে দায়ের করা মামলায়, খাদ্য পরিদর্শক (স্যানিটারী ইন্সপেক্টর) মোহাং কামরুল হাসানর আবেদনের ভিত্তিতে সোমবার (২৪ নভেম্বর) গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত সাহারা বীথি। আবেদনপত্র অনুযায়ী, পরীক্ষায় পাওয়া তথ্য অনুযায়ী “ফ্রেশ সুগার”-এর এক নমুনায় ন্যূনতম অনুমোদিত ৯৯.৭০ শতাংশ সুক্রোজের বদলে মাত্র ৭৭.৩৫ শতাংশ সুক্রোজ পাওয়া গেছে। একই সময়ে, সালফার ডাই-অক্সাইড (SO₂) পাওয়া গিয়েছে ০.০৮ পিপিএম — যা সংশ্লিষ্ট মানদণ্ড অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য নয়। মামলায় বলা হয়েছে, অনুমোদিত চিনি থেকে কম “সুক্রোজ” হওয়া এবং “সালফারের উপস্থিতি” মানে পণ্যে কৃত্রিম প্রক্রিয়া ও স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকতে পারে।
খাদ্য পরিদর্শক মোহাং কামরুল বলেন, “সালফার ডাই-অক্সাইড হলো একটি ব্লিচিং এবং সংরক্ষণকারী রাসায়নিক, যা চিনির রঙ সাদা করতে এবং সংরক্ষণ বাড়াতে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু অনুমোদিত চিনি পণ্যে এতে কোনো সালফার থাকা উচিত নয়। তারা সাধারণ চিনি নয়, ‘সালফিটেড চিনি’ বিক্রি করছে।” মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, মেঘনা রিফাইনারি জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরি করে নিম্নমানের চিনি বাজারজাত করেছে। পরবর্তী শুনানির জন্য সংগঠন ১৫ ডিসেম্বর তারিখ ধার্য করেছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে চিনির বাজারে মেঘনা গ্রুপ অন্যতম বৃহৎ বিক্রেতা এবং প্রতিদ্বন্দ্বী সিটি গ্রুপের সঙ্গে তার বাজারে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে।
আরএস
No comments yet. Be the first to comment!