রাজধানী

সাজানো জঙ্গি অভিযান ও ন্যারেটিভ অপব্যবহারের অভিযোগ

আপডেট: ডিসে ০৯, ২০২৫ : ০৯:১৩ এএম ৬০
সাজানো জঙ্গি অভিযান ও ন্যারেটিভ অপব্যবহারের অভিযোগ

রাষ্ট্রীয় ন্যারেটিভের অপব্যবহার, সাজানো “জঙ্গি অভিযান” ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে সত্য উদঘাটন এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছে মেজর জিয়াউল হক মুক্তি পরিষদ। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে সিভিল সোসাইটি, মানবাধিকার কর্মী এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা গত দুই দশকের নিরাপত্তা কাঠামোর বিভিন্ন অসংগতির সমালোচনা করেন।

বক্তাদের দাবি—“জঙ্গি ন্যারেটিভ” রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হওয়ায় গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, সাজানো মামলা, দীর্ঘ রিমান্ড ও মিডিয়া ট্রায়ালের মতো ঘটনা ঘনঘন ঘটেছে। তারা অভিযোগ করেন, বেশ কিছু জঙ্গিবিরোধী অভিযান আগে থেকেই পরিকল্পিত ছিল এবং অনেক আসামিকে আগেই আটক রেখে পরবর্তী সময়ে অভিযান সাজানোর নজির রয়েছে, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর আস্থা কমিয়ে দিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সেনা কর্মকর্তা মেজর সৈয়দ মো. জিয়াউল হকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে “ইঞ্জিনিয়ারড” অভিহিত করা হয়। বক্তারা বলেন, তাকে একইসঙ্গে একাধিক পরস্পরবিরোধী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা অভিযোগের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, তদন্ত সংস্থা কখনো তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ উপেক্ষা করা হয়েছে।

মেজর জিয়ার নামে ঘোষিত ২০ লাখ টাকার পুরস্কারকে “নথিবিহীন” উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, এ ধরনের ঘোষণা ছিল শুধু মিডিয়া ন্যারেটিভ তৈরির প্রচেষ্টা। সংগঠনের পক্ষ থেকে সাত দফা দাবি জানানো হয়—পুরস্কার ঘোষণার ব্যাখ্যা, সাজানো মামলার মৃত্যুদণ্ড স্থগিত, রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার, হাইকোর্ট রেফারেন্স মামলায় অব্যাহতি, যোগ্যতার ভিত্তিতে সেনাবাহিনীতে পুনর্বহাল এবং ২০১৩–২০২৪ সালের জঙ্গি অভিযানের ওপর স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন সাবেক কূটনীতিক সাকির আলী। মেজর জিয়াউল হক মুক্তি পরিষদের সমন্বয়ক মিনহাজুল আবেদীন স্বাক্ষরিত বিবৃতি শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, “এটি শুধু একজনের ন্যায়বিচারের প্রশ্ন নয়; রাষ্ট্রীয় স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক উত্তরদায়িত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি।”

 

আরএস

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!