রাজধানী

পুলিশ–ব্যবসায়ী সংঘর্ষে রণক্ষেত্র কারওয়ান বাজার

আপডেট: জানু ০৪, ২০২৬ : ০৩:১৮ পিএম
পুলিশ–ব্যবসায়ী সংঘর্ষে রণক্ষেত্র কারওয়ান বাজার

মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষে রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) ব্যবস্থা চালুর প্রতিবাদসহ একাধিক দাবিতে সকালে শুরু হওয়া অবস্থান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

আজ রোববার দুপুরে কারওয়ান বাজার এলাকায় দেখা যায়, আন্দোলনকারীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিতে পুলিশ এগোলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং আশপাশের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। যান চলাচলও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

সংঘর্ষের একপর্যায়ে মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা পিছু হটে বাংলামোটরের দিকে অবস্থান নেন। সেখানে সড়কে আগুন জ্বালিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (দুপুর ২টা ১০ মিনিট) এলাকায় থেমে থেমে সংঘর্ষ ও ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়া চলছিল।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারা মোড় অবরোধ করে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। এতে বসুন্ধরা থেকে কারওয়ান বাজার পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ লাঠিপেটা করে আন্দোলনকারীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। পরে দুপুরের দিকে আবারও ব্যবসায়ীদের একটি অংশ সড়কে বসে পড়লে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তখন পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে এবং পরে লাঠিপেটা ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ সময় কয়েকজনকে আটক করা হয়।

মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ (এমবিসিবি) জানায়, এনইআইআর ব্যবস্থা বাস্তবায়নের প্রতিবাদ, বিটিআরসি ভবনে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তারদের মুক্তিসহ কয়েকটি দাবিতে তারা এই কর্মসূচি পালন করছেন। একই সঙ্গে অনির্দিষ্টকালের জন্য সারা দেশে সব মোবাইল ফোনের দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণাও দিয়েছে সংগঠনটি।

উল্লেখ্য, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এনইআইআর ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এই ব্যবস্থার আওতায় মোবাইল নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত প্রতিটি ফোনের আইএমইআই নম্বর একটি জাতীয় ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। অবৈধ ও আনঅফিশিয়াল হ্যান্ডসেট নিয়ন্ত্রণে এই ব্যবস্থা কার্যকর করা হলেও শুরু থেকেই এর বিরোধিতা করে আসছেন মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা।

আরএস

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!