সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরির গেজেট বাস্তবায়ন, নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র প্রদান, ৮ ঘণ্টা কর্মদিবস কার্যকরসহ বিভিন্ন দাবিতে আগামী ১৪ জানুয়ারি থেকে দেশব্যাপী কর্মবিরতিতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন হোটেল–রেস্তোরাঁ সেক্টরের কর্মীরা।
আজ সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন হোটেল–রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি ও শ্রম আইন বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক আক্তারুজ্জামান খান।
আক্তারুজ্জামান খান বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির কারণে হোটেল–রেস্তোরাঁ খাতের শ্রমিকেরা চরম দুর্দশার মধ্যে জীবনযাপন করছেন। মালিকপক্ষ নিয়মিত খাবারের দাম বাড়ালেও শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ও নিয়োগপত্র–পরিচয়পত্র নিশ্চিত করা হচ্ছে না। বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী ৮ ঘণ্টার বেশি কাজের জন্য দ্বিগুণ মজুরি দেওয়ার বিধান থাকলেও বাস্তবে শ্রমিকদের দিয়ে ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টা কাজ করানো হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার, মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের মধ্যে একাধিক ত্রিপক্ষীয় ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও সেগুলোর কোনোটি বাস্তবায়িত হয়নি। চলতি বছরের ৫ মে সরকার হোটেল–রেস্তোরাঁ সেক্টরের নিম্নতম মজুরির চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করলেও প্রায় আট মাস পার হলেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে তা কার্যকর হয়নি, যা আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।
সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক জানান, গত বছরের ২০ অক্টোবর ও ১৮ ডিসেম্বর সংশ্লিষ্ট দপ্তরে স্মারকলিপি দেওয়া এবং ২৪ ডিসেম্বর ত্রিপক্ষীয় সভা অনুষ্ঠিত হলেও কার্যকর কোনো অগ্রগতি হয়নি। এতে শ্রমিকদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে সরকার ঘোষিত গেজেট অনুযায়ী মজুরি প্রদান, নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র নিশ্চিতকরণ, ৮ ঘণ্টা কর্মদিবস কার্যকর এবং আগে সম্পাদিত সব চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে আগামী ১৪ জানুয়ারি দেশব্যাপী কর্মবিরতি পালন করা হবে বলে জানান তিনি।
আক্তারুজ্জামান খান বলেন, সরকার গেজেট প্রকাশ করার মাধ্যমে সেটিকে আইনের রূপ দিয়েছে। সেই গেজেট বাস্তবায়নের দায়িত্ব রাষ্ট্র ও সরকারের। অথচ শ্রম আইন অনুযায়ী নিয়োগপত্র প্রদান ও কর্মঘণ্টা নির্ধারণের বিধানগুলো বাস্তবে কার্যকর হচ্ছে না। এসব দাবি কোনো নতুন দাবি নয়, এগুলো শ্রমিকদের আইনস্বীকৃত অধিকার।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের যুগ্ম সম্পাদক প্রকাশ দত্ত, ঢাকা মহানগর সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক সাইফুল ইসলামসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আরএস
No comments yet. Be the first to comment!