দেশের জনসাধারণকে স্বল্প ব্যয়ে দ্রুত ও আধুনিক গণপরিবহন সেবা প্রদানকারী মেট্রোরেল পরিচালিত হচ্ছে শক্ত আইনি কাঠামোর আওতায়। আইন ভঙ্গ করলে জেল-জরিমানার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার বিধানও এতে রয়েছে।
মেট্রোরেল পরিচালনার জন্য প্রণীত ‘মেট্রোরেল আইন-২০১৫’ অনুযায়ী প্রথম পর্যায়ে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর ও নরসিংদী জেলায় এই আইন কার্যকর থাকবে। পরবর্তীতে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে দেশের অন্যান্য জেলাতেও এর কার্যকারিতা সম্প্রসারণ করা হবে।
আইনের ১৭ ধারায় বলা হয়েছে, মেট্রোরেল সেবার ভাড়ার হার কর্তৃপক্ষ সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারণ করবে।
১৯ ধারায় ভাড়া সংক্রান্ত তথ্য ওয়েবসাইটে এবং জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি স্টেশন ও ট্রেনের ভেতরে ভাড়ার তালিকা দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শনের নির্দেশনা রয়েছে। নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
২০ ধারায় যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী, নারী, শিশু ও প্রবীণদের জন্য নির্দিষ্ট আসন সংরক্ষণের বিধান রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতিপূরণ ও বীমা সুবিধা নিয়েও আইনে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। ২৫ ধারায় বলা হয়েছে, মেট্রোরেল পরিচালনাকালে কোনো দুর্ঘটনায় ব্যক্তি আহত বা নিহত হলে কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত পদ্ধতিতে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকবে।
২৬ ধারায় আহত ব্যক্তির প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসা ব্যয় পরিশোধের বিধান রয়েছে। ২৮ ও ২৯ ধারায় দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে বীমা কোম্পানি থেকে ৯০ দিনের মধ্যে ক্ষতিপূরণ আদায় করে ভুক্তভোগী বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নির্ধারণ করা হয়েছে।
৩৯ ধারায় বলা হয়েছে, মেট্রোরেল পরিচালনায় বীমা না করলে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড বা ১০ কোটি টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে। নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার ক্ষেত্রে ৩৫ ধারায় সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড বা ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। টিকিট জালিয়াতি বা অননুমোদিত বিক্রির ক্ষেত্রে ৩৬ ধারায় সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড বা ১ কোটি টাকা জরিমানা হতে পারে।
৪০ ধারায় টিকিট ছাড়া ভ্রমণ বা ভাড়া ফাঁকি দেওয়ার ক্ষেত্রে ভাড়ার ১০ গুণ জরিমানা বা অনাদায়ে সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
অপরাধে সহায়তা বা ষড়যন্ত্রের ক্ষেত্রে ৪৩ ধারায় দায়বদ্ধতা নির্ধারণ করা হয়েছে। পুনরাবৃত্ত অপরাধে ৪৪ ধারায় দ্বিগুণ শাস্তির বিধান রয়েছে।
এছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী এসব অপরাধের বিচার, তদন্ত ও আপিল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে এবং কিছু অপরাধ মোবাইল কোর্টেও বিচারযোগ্য হবে বলে আইনে উল্লেখ রয়েছে।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!