শিক্ষা

প্রাথমিকের ১৪ হাজার শিক্ষক পদের বিপরীতে পরীক্ষায় বসছেন ১০ লাখ পরীক্ষার্থী

আপডেট: ডিসে ২৭, ২০২৫ : ০৪:৫৪ এএম
প্রাথমিকের ১৪ হাজার শিক্ষক পদের বিপরীতে পরীক্ষায় বসছেন ১০ লাখ পরীক্ষার্থী

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে দেশের ইতিহাসে অন্যতম বড় প্রতিযোগিতামূলক লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ১৪ হাজার ৩৮৫টি শূন্য পদের বিপরীতে এই পরীক্ষায় অংশ নেবেন ১০ লাখ ৮০ হাজারের বেশি চাকরিপ্রার্থী। গড়ে প্রতিটি পদের জন্য লড়াই করবেন প্রায় ৭৫ জন পরীক্ষার্থী।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানায়, প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে আবেদন করা প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষা একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ২ জানুয়ারি সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত দেশের সব জেলায় একযোগে এই পরীক্ষা নেওয়া হবে। তবে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলায় নিরাপত্তাজনিত কারণে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না।

অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ধাপে রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের ১০ হাজার ২১৯টি পদের বিপরীতে আবেদন করেছেন ৭ লাখ ৪৫ হাজার ৯২৯ জন। দ্বিতীয় ধাপে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের ৪ হাজার ১৬৬টি পদের বিপরীতে আবেদন পড়েছে ৩ লাখ ৩৪ হাজার ১৫১টি।

পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই সকাল ৯টার মধ্যে নিজ নিজ কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে আসন গ্রহণ করতে হবে। পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রের সব প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হবে। এরপর কাউকে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে না।

পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢোকার সময় নারী ও পুরুষ পরীক্ষার্থীদের আলাদা তল্লাশি করা হবে। প্রয়োজনে হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টর ব্যবহার করা হবে। ব্লুটুথ বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস শনাক্তে পরীক্ষার্থীদের উভয় কান উন্মুক্ত রাখতে হবে।

পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল ফোন, স্মার্ট ওয়াচ, ক্যালকুলেটর, যে কোনো ধরনের ঘড়ি, পার্স, ভ্যানিটি ব্যাগ ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নিষিদ্ধ সামগ্রীসহ ধরা পড়লে পরীক্ষার্থীকে তাৎক্ষণিক বহিষ্কারসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরীক্ষার্থীদের দেওয়া ওএমআর শিট শুধু কালো বলপয়েন্ট কলম দিয়ে পূরণ করতে হবে। পেনসিল ব্যবহার করলে উত্তরপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে। পরীক্ষা শেষে প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র উভয়ই পরিদর্শকের কাছে জমা দিতে হবে; প্রশ্নপত্র সঙ্গে নেওয়া যাবে না।

সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে প্রতিটি কেন্দ্রে ১৪৪ ধারা জারি থাকবে। জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি সার্বিকভাবে পরীক্ষা পরিচালনা করবে। ভুয়া পরীক্ষার্থী বা অনিয়মের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক শাস্তির ব্যবস্থাও থাকবে।

এদিকে, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পরীক্ষার্থীদের আবেদনে দেওয়া মোবাইল নম্বরে প্রবেশপত্র ডাউনলোড সংক্রান্ত এসএমএস পাঠানো হয়েছে। আজ ২৭ ডিসেম্বর সকাল ১০টা থেকে admit.dpe.gov.bd ওয়েবসাইটে ইউজারনেম-পাসওয়ার্ড অথবা এসএসসি পরীক্ষার রোল, বোর্ড ও পাসের সন দিয়ে লগইন করে প্রবেশপত্র ডাউনলোড করা যাবে। পরীক্ষায় অংশ নিতে প্রার্থীদের রঙিন প্রিন্ট করা প্রবেশপত্র ও জাতীয় পরিচয়পত্রের মূল কপি সঙ্গে আনতে হবে।


আরএস

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!