বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের প্রকৌশল খাতে পেশাগত ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা জোরদারে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বৈঠকে অংশ নেয় The Institution of Engineers, Bangladesh (আইইবি), The Institution of Engineers, Pakistan (আইইপি) এবং Pakistan Engineering Council (পিইসি)।
রোববার (১৯ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাজধানীর রমনায় আইইবি সদর দপ্তরের প্রকৌশলী কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম (রিজু), সভাপতি, আইইবি।
বৈঠকে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সোহাইল বশির, সভাপতি, আইইপি এবং ড. সারোশ হাশমত লোদি, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান, পিইসি।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং টেকসই উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দুই দেশের প্রকৌশলীদের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, যৌথ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, কারিগরি সেমিনার এবং গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি তরুণ প্রকৌশলীদের দক্ষতা উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হয়।
সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম বলেন,
“এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠক আঞ্চলিক পর্যায়ে প্রকৌশল সহযোগিতা জোরদার এবং পেশাগত উৎকর্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”
আইইবির সাধারণ সম্পাদক ড. শব্বির মোস্তফা খান বলেন,
“প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পেলে জ্ঞান বিনিময় ও পেশাগত উন্নয়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।”
আইইপির সভাপতি সোহাইল বশির মন্তব্য করেন,
“আইইপি ও আইইবির মধ্যে সহযোগিতা জোরদার হলে প্রকৌশল খাতে উদ্ভাবন বৃদ্ধি পাবে।”
এসময় পিইসি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ড. সারোশ হাশমত লোদি বলেন,
“আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি।”
বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা ভবিষ্যতে যৌথ সেমিনার, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, প্রযুক্তিগত কর্মশালা এবং গবেষণা প্রকল্প আয়োজনের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। এছাড়া প্রকৌশল শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টেকসই অবকাঠামো উন্নয়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তারে এ ধরনের আঞ্চলিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এই বৈঠক দুই দেশের প্রকৌশল খাতের মধ্যে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করবে এবং ভবিষ্যতে যৌথ উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথ সহজ করবে।
No comments yet. Be the first to comment!