ই-পাসপোর্ট ইস্যু প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি ও গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের ডাটা অ্যান্ড পার্সোনালাইজেশন সেন্টারের সহকারী প্রোগ্রামার হাসানুজ্জামানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এক বছরের জন্য তার বেতন গ্রেড এক ধাপ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা–৪ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন সিনিয়র সচিব নাসিমুল গণি। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, এনায়েত উল্লাহ নামের এক ব্যক্তি অন্যজন লিটন মিয়ার এমআরপি পাসপোর্ট নম্বর ব্যবহার করে নিজের পরিচয় বদলে ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেন। পরে সেই আবেদন যাচাই–বাছাইয়ের ত্রুটির সুযোগে এনায়েত উল্লাহর নামে ই-পাসপোর্ট ইস্যু হয়। এতে লিটন মিয়ার মূল পাসপোর্টটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, আবেদনকারীর মুখাবয়ব ও আঙুলের ছাপ সম্পূর্ণ অমিল থাকা সত্ত্বেও এবিআইএস সফটওয়্যারে তা বাতিল হয়নি। বরং সংশ্লিষ্ট সহকারী প্রোগ্রামার হাসানুজ্জামান নিজের ইউজার আইডি ব্যবহার করে ‘ইআইডি রিলিজ’ ও অনুমোদন দেন। ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে অফিস সহকারী কাম–কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক সাকিবুর রহমানের বিরুদ্ধেও গত ২৭ মে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তার ব্যক্তিগত শুনানিও সম্পন্ন হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তা উপসচিব মোহাম্মদ আবু কাউছারের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি সব নথি, সাক্ষ্য ও প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করে মত দেয়—সরকারি কর্মচারী বিধিমালা অনুযায়ী অভিযোগ প্রমাণিত। সেই ভিত্তিতে হাসানুজ্জামানকে লঘুদণ্ড হিসেবে বেতন এক ধাপ কমানোর সুপারিশ করা হয়। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, তার বেতন ৩৫ হাজার ৮৮৮ টাকা থেকে কমিয়ে ৩৪ হাজার ১৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এক বছর পর তিনি আগের বেতনক্রমে ফিরতে পারবেন, তবে কোনো বকেয়া সুবিধা পাবেন না।
আরএস
No comments yet. Be the first to comment!