বিশেষ প্রতিবেদন

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনই চূড়ান্ত সমাধান: চীনা রাষ্ট্রদূত

আপডেট: ডিসে ১৪, ২০২৫ : ১২:২৩ পিএম
রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনই চূড়ান্ত সমাধান: চীনা রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের সংকটের চূড়ান্ত সমাধান হলো প্রত্যাবাসন—এমন মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। তিনি বলেন, সবাই প্রত্যাবাসন দেখতে চায়, তবে এ ক্ষেত্রে বাস্তববাদী হতে হবে। বর্তমান সময়ে মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যের স্থল পরিস্থিতির কারণে এই প্রক্রিয়া এখনই বাস্তবায়ন করা অবাস্তব।

আজ রোববার (১৪ ডিসেম্বর) ঢাকায় জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)-এর সঙ্গে রোহিঙ্গাদের জন্য ২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার সহায়তা সংক্রান্ত এক সমঝোতা স্বাক্ষর অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন চীনা রাষ্ট্রদূত। ইয়াও ওয়েন বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কত সময় লাগবে সে বিষয়ে তাঁর কোনো নির্দিষ্ট ধারণা নেই এবং তিনি কোনো গ্যারান্টিও দিতে পারবেন না। এটি বাংলাদেশের নেতৃত্বে এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতায় বাস্তবায়ন করতে হবে। সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা আট বছর ধরে বাংলাদেশে রয়েছে। তাই এ প্রক্রিয়ায় আর দেরি করা উচিত নয়।

রাষ্ট্রদূত বলেন, নিরাপদ, স্বেচ্ছাসেবী ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য অনেক শর্ত ও নিশ্চয়তা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে চীন, আন্তর্জাতিক সংস্থা, প্রতিবেশী দেশ, আসিয়ান সদস্যরাষ্ট্র এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য। সবার সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এই সংকটের সমাধান সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, প্রত্যাবাসন শুধু চীনের দৃষ্টিভঙ্গি নয়; বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও একই অবস্থান। এই সংকট শুধু বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের দ্বিপক্ষীয় বিষয় নয়, বরং এটি আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে গঠিত ত্রিপক্ষীয় ব্যবস্থার আওতায় একযোগে কাজ করতে হবে।

ইয়াও ওয়েন বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এ বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ রয়েছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে চীন তার সক্ষমতার মধ্যে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। এদিকে ইউএনএইচসিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চীনের ২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের সহায়তায় রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য এলপিজি গ্যাস সরবরাহ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা যাবে। এতে জ্বালানি কাঠের ওপর নির্ভরশীলতা কমবে, পাশাপাশি শরণার্থীদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টির মান উন্নত হবে এবং ক্যাম্পের আশপাশের বনভূমি সুরক্ষিত থাকবে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেন বলেন, বৈশ্বিক অর্থসহায়তা কমে যাওয়ার এমন সময়ে চীনের এই উদার অনুদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে বহু জীবনরক্ষাকারী কর্মসূচির অর্থায়ন ঝুঁকির মুখে রয়েছে। তিনি বলেন, চীনের এই সংহতির জন্য ইউএনএইচসিআর গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। এই সহায়তা শুধু রান্নার গ্যাস সরবরাহের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি শরণার্থীদের মর্যাদা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন আরও বলেন, বিশ্বজুড়ে মানবিক সহায়তার তহবিল কমে আসছে এবং কিছু দেশ তাদের সহায়তার অঙ্গীকার কমিয়ে দিয়েছে। এতে ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর জীবন আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে চীন তার সহায়তা অব্যাহত রাখবে এবং প্রয়োজনে তা আরও বাড়াবে। তিনি জানান, প্রকল্পটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য চীন ইউএনএইচসিআর ও বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে, যাতে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বাস্তুচ্যুত মানুষরা দ্রুত এর সুফল পেতে পারেন।


আরএস

Tags:
চীনা রাষ্ট্রদূত

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!