বিশেষ প্রতিবেদন

আপোষ নয়, আদর্শেই শক্তি ৩৫ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রামের পর বিএনপির মূলধারায় ফিরলেন মাজেদা খাতুন

আপডেট: ডিসে ২৭, ২০২৫ : ০৫:৩২ এএম ১৪
আপোষ নয়, আদর্শেই শক্তি ৩৫ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রামের পর বিএনপির মূলধারায় ফিরলেন মাজেদা খাতুন

খুলনা নগর রাজনীতিতে মাজেদা খাতুন একটি পরিচিত ও প্রভাবশালী নাম। প্রায় সাড়ে তিন দশকের রাজনৈতিক জীবনে নির্যাতন, নিপীড়ন ও নানা প্রতিকূলতার মুখেও তিনি পরিচিতি পেয়েছেন একজন আপোষহীন বিএনপি নেত্রী হিসেবে। দীর্ঘ ৩৫ বছরের নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রামের পর তিনি আবারও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মূলধারায় ফিরলেন।

মাজেদা খাতুনের রাজনৈতিক পথচলার শুরু স্কুলজীবন থেকেই। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি ছাত্রজীবনে রাজনীতিতে যুক্ত হন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মাঠপর্যায়ের আন্দোলন, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও নেতৃত্বের মধ্য দিয়ে খুলনা নগরীতে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেন।

তিনি একাধিকবার খুলনা সিটি করপোরেশনের সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হন (ওয়ার্ড ২৪, ২৭ ও ২৮)। জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দলীয় আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন তিনি। বিগত সরকারের সময়ে রাজনৈতিক দমন–পীড়নের মুখেও মাজেদা খাতুন দলীয় আদর্শ থেকে সরে যাননি। তবে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে কোনো কর্মকাণ্ডে যুক্ত না থাকা সত্ত্বেও একপর্যায়ে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। বিষয়টি খুলনার রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার সৃষ্টি করে।

পরবর্তীতে বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাঁর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে তাঁকে পুনরায় দলীয় মর্যাদায় বহাল রাখা হয়। এই সিদ্ধান্তে খুলনাসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে স্বস্তি ও সন্তোষ প্রকাশ পায়।

স্থানীয় নেতারা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, এই সিদ্ধান্ত ত্যাগী, পরীক্ষিত ও দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত নেতাদের প্রতি দলের আস্থারই প্রতিফলন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মাজেদা খাতুনের পুনর্বহাল দক্ষিণাঞ্চলের রাজনীতিতে একটি তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা বহন করে। অভিজ্ঞতা ও দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা এই নেত্রী আবারও বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত। খুলনা নগর রাজনীতিতে দৃঢ়তা, ত্যাগ ও আপোষহীন অবস্থানের প্রতীক হিসেবে মাজেদা খাতুনের অবস্থান এখনো অটুট—এ কথা বলেন তাঁর সহযোদ্ধারা।


আরএস

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!