ওয়াশিংটন থেকে ব্রাসেলস: কিভাবে বৈশ্বিক ক্ষমতার রাজনীতি গণতন্ত্রকে পুনর্গঠন করছে। লেখক ঃ মোঃ গোলাম মোস্তফা, আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ॥ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক, গনফোরাম ও Democratic Lawyers Association and Law Secretary, Dhaka University Political Science Department Almunai Association and Former Director, Amnesty International Bangladesh
গণতন্ত্র কোনো নিশ্চয়তা নয়; এটি একটি নাজুক ব্যবস্থা যা সতর্কতা, সাহস এবং সক্রিয় অংশগ্রহণের উপর নির্ভরশীল। বিশ্বব্যাপী, ওয়াশিংটন থেকে ব্রাসেলস পর্যন্ত যে ঘটনা ঘটছে তা দেখাচ্ছে কিভাবে রাজনৈতিক মেরুকরণ, সামাজিক মাধ্যমের প্রভাব এবং চরমপন্থী নীতি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনর্গঠন করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ইউরোপে রাজনৈতিক বিভাজন এবং শক্তিশালী প্রযুক্তি কোম্পানির প্রভাব দেখায় যে এমনকি প্রতিষ্ঠিত গণতন্ত্রও বিপন্ন হতে পারে।
বাংলাদেশ আজ তার নিজস্ব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি: রাজনৈতিক মেরুকরণ, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণ, মতপ্রকাশের দমন এবং স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠানের ওপর বাড়তি চাপ—সবই স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে যে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষা করা সহজ কাজ নয়।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাবলী এই সময়ের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করছে। বিএনপি’র কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের ১৭ বছরের নির্বাসনের পর দেশে প্রত্যাবর্তন এবং ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। এই পরিস্থিতি সতর্কতা, শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে রক্ষা করার প্রয়োজনীয়তা প্রকাশ করছে, যাতে আসন্ন নির্বাচন সুষ্ঠু, ন্যায়সঙ্গত এবং ভয়মুক্তভাবে অনুষ্ঠিত হয়।
সন্দেশটি স্পষ্ট এবং জরুরি: সতর্ক থাকুন, আগে কথা বলুন, এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষা করুন, সময় শেষ হওয়ার আগে।
সতর্ক থাকুন। প্রতিটি নাগরিক, রাজনৈতিক নেতা এবং প্রতিষ্ঠানকে কর্তৃত্ববাদ, চরমপন্থা এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্বলতার প্রতীকী সংকেত চিনতে হবে। এই সংকেত উপেক্ষা করা, আশা করা যে সমস্যা নিজে থেকে দূর হয়ে যাবে, বিপজ্জনক। সচেতনতা হলো প্রতিরোধের প্রথম ধাপ।
আগে কথা বলুন। অন্যায় বা রাজনৈতিক শক্তি কেন্দ্রীকরণের মুখোমুখি নীরব থাকা কেবল পরিস্থিতিকে জোরদার করে। নাগরিক অংশগ্রহণ, দায়িত্বশীল মিডিয়া প্রতিবেদন, রাজনৈতিক উদ্যোগ বা জনসাধারণের আলোচনার মাধ্যমে শঙ্কা প্রকাশ করা জরুরি। দেরিতে ব্যবস্থা নিলে ছোট সমস্যা বড় সংকটে পরিণত হতে পারে।
গণতন্ত্রকে রক্ষা করুন। স্বাধীনতা, আইনশৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা এবং নাগরিক অধিকার—এই সবই ন্যায়পরায়ণ সমাজের ভিত্তি। এগুলো রক্ষার জন্য প্রয়োজন সক্রিয় উদ্যোগ: বিদ্বেষমূলক প্রচারণার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো, সংখ্যালঘু অধিকার রক্ষা, প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং স্বচ্ছ শাসন প্রচার করা।
বাংলাদেশের ইতিহাস স্বাধীনতা, ন্যায় এবং গণতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য যে আত্মত্যাগ করা হয়েছে তার প্রমাণ। আজ এই দায়িত্ব আমাদের সবার—নাগরিক, নেতা এবং প্রতিষ্ঠান—এর ওপর যে আমরা এই অর্জিত স্বাধীনতা ও অধিকারকে অবহেলা, স্বার্থপরতা বা চরমপন্থার দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেব না।
যেমনভাবে বৈশ্বিক ক্ষমতার রাজনীতি এবং উত্থিত পপুলিজম ওয়াশিংটন থেকে ব্রাসেলস পর্যন্ত গণতন্ত্রকে পুনর্গঠন করছে, বাংলাদেশকেও সতর্ক থাকতে হবে। গণতন্ত্র নাজুক, এবং নেতা—দেশীয় ও আন্তর্জাতিক—কে সময় শেষ হওয়ার আগে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
সতর্ক থাকুন। আগে কথা বলুন। গণতন্ত্রকে রক্ষা করুন। কাজ করার সময় এখনই।
আরএস
No comments yet. Be the first to comment!