সুমন হালদার
১লা জানুয়ারি বাংলা একাডেমির কবি আল মাহমুদ লেখক কর্নারে বাংলা বানান সংস্কার’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাভাষা উন্নয়ন পরিষদ ও পূর্ণিমা বাসরের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক।
'বাংলা বানানে কারচিহ্নের অপপ্রয়োগজনিত উচ্চারণ বিকৃতি সমস্যা : স্বরূপ ও সমাধান' শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট ভাষাগবেষক কবি শাহ সীদদীক। জাতীয় সাহিত্য-সাংস্কৃতিক ঐক্যজোটের সভাপতি রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাভাষা উন্নয়ন পরিষদের আহ্বায়ক লেখক-সাংবাদিক মঈন মাহমুদ। মূখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন নর্থ-সাউথ ইউনিভার্সিটির বাংলা বিভাগের খণ্ডকালীন শিক্ষক ড. নূর মোহাম্মদ মল্লিক। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উযারদুয়ার প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বাধিকারী কাব্য সুলতানা, জিয়া সংসদের সভাপতি সৈয়দ নাজমুল আহসান, আবৃত্তিশিল্পী ও গবেষক জাহান বশীর, সাবেক সংসদ সদস্য ও সংগঠক মোঃ শফিকুল ইসলাম, বাংলা একাডেমির কর্মকর্তা শাহ মোঃ মনিরুজ্জামান, কবি গোলাম মোস্তফা তাপস প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ফজলুল হক প্রবন্ধ উপস্থাপকের গবেষণা কাজের ভূয়সী প্রশংসা এবং এতে নিজের ঐক্যমত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, ড. এনামুল হক, ড, মুনীর চৌধুরীর প্রমুখের পর দীর্ঘদিন যাবত আর কেউ বাংলাভাষার সংস্কার নিয়ে মাথা ঘামাননি। শাহ সিদ্দিক সাহেব এ ব্যাপারে যে সাহসীকতা দেখিয়েছেন সকলকে তার গুরুত্ব অনুধাবন করা দরকার।
স্বাগত বক্তব্যে বাংলাভাষা উন্নয়ন পরিষদের আহ্বায়ক সাংবাদিক মঈন মাহমুদ বাংলা বানান সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। তিনি বলেন, বাংলা বানান ও উচ্চারণ সমস্যা অনেক পুরনো বিষয়। যুগে যুগে বাংলা বানান সংস্কারের প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ নেয়া হলেও তা পুরোপুরি সফলতা অর্জন করতে পারেনি। বাংলাভাষা উন্নয়ন পরিষদের প্রচেষ্টা থাকবে বাংলাভাষাকে আন্তর্জাতিকীকরণে উদ্যোগ গ্রহণ করা।
মুখ্য আলোচক ড. নূর মোহাম্মদ মল্লিক বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছে বাংলাভাষা একটা ভীতিকর বিষয় মনে হয় এবং এ বিষয়ে সবাই সবচেয়ে কম নাম্বার পায়। তিনি আজকের বাংলা বানান সংস্কার প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন করা দরকার বলে মত প্রকাশ করেন।
উষার দুয়ার প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বাধিকারী কবি কাব্য সুলতানা বলেন, গবেষক শাহ সীদদীক প্রণীত ও উষার দুয়ার প্রকাশিত বাংলা বানান সংস্কার বিষয়ক বই ‘বাংলা বানানে অদৃশ্য অধ্বনির পুনর্বিন্যাস ও যুক্তাক্ষর সমস্যার সমাধান’ প্রকাশের পর বাংলা বানানের প্রতি অনেকের আগ্রহ বেড়েছে।
আবৃত্তিশিল্পী ও গবেষক জাহান বশীর বলেন, বাংলা বানানের সমস্যার কারণে বাংলা উচ্চারণেও সমস্যা হয়। আবৃত্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে দিয়ে নিজ অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, বাংলা স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জণবর্ণেরমধ্যে নানা সমস্যা রয়েছে এবং আমরা তা চিহ্নিত করেছি। কিন্তু সেগুলো দেখার বা বিশ্লেষণ করার কোনো অভিভাবক যেন নেই।
সৈয়দ নাজমুল আহসান আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বাংলা বানান সংস্কার নিয়ে কাজ করা এবং এর কার্যকর করতে বাংলা একাডেমি সংস্কার প্রস্তাবক শাহ সীদদীককে সর্বাত্বক সহযোগিতা করবে।
সভাপতির বক্তব্যে জনাব রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাংলা বানানে প্রচুর সমস্যা। বাংলা একাডেমি কেন এতদিন এ বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করে নাই। তিনি বাংলা একাডেমিকে বাংলা বানান সংস্কার প্রস্তাবকে গ্রহণ করা জন্য আহ্বান জানান। অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় ছিলেন ভাষা আন্দোলন সংগঠক ডা. মোঃ মোক্তাদির।
আরএস
No comments yet. Be the first to comment!