খেলাধুলা

মেজাজ হারিয়ে সতীর্থকে চড়!

আপডেট: নভে ২৫, ২০২৫ : ০৭:১৭ এএম ১০
মেজাজ হারিয়ে সতীর্থকে চড়!

মাঠের লড়াইয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি, বাকবিতণ্ডা যেন রুটিন ঘটনা। তবে একই দলের দুই খেলোয়াড়ের মধ্যে হাতাহাতি—এমন দৃশ্য বিরল। ঠিক তেমনই এক বিব্রতকর ঘটনা ঘটেছে প্রিমিয়ার লিগে এভারটন-ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ম্যাচে। নিজেদের মাঠ ওল্ড ট্রাফোর্ডে সতীর্থ মাইকেল কিনকে চড় মেরে সরাসরি লাল কার্ড দেখেছেন এভারটন মিডফিল্ডার ইদ্রিসা গুয়ে।

ঘটনাটি ঘটে ম্যাচের ১৩ মিনিটে। রক্ষণভাগে ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ নিয়ে ম্যানইউর ব্রুনো ফের্নান্দেস আক্রমণ সাজালে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন গুয়ে। সেই ক্ষোভ গিয়ে পড়ে সতীর্থ কিনের ওপর। রেফারি টনি হ্যারিংটনের সামনেই কিনকে ধাক্কা দিয়ে চড় মারেন গুয়ে। সঙ্গে সঙ্গে ভিএআরের সহায়তায় সিদ্ধান্ত নিয়ে দেখানো হয় লাল কার্ড। তখনো ম্যাচ গোলশূন্য। লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ার সময়ও শান্ত ছিলেন না গুয়ে। সতীর্থদের থামানোর চেষ্টা সত্ত্বেও তিনি আবার কিনের দিকে অগ্রসর হন। পরে গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড ও ইলিমান এনদিয়ায়ে তাঁকে ধরে সরিয়ে নিতে বাধ্য হন।

১০ জনের দলে পরিণত হলেও এভারটন পরেই গোল পেয়ে যায়। কিয়েরনান ডিউসবুরি-হালের গোলে ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় দলটি।
ম্যাচ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুঃখ প্রকাশ করেন গুয়ে। লেখেন, ‘আমি শুরুতেই আমার সতীর্থ মাইকেল কিনের কাছে ক্ষমা চাইছি। পুরো ঘটনাটির দায় আমারই। সতীর্থ, স্টাফ, ভক্ত এবং পুরো ক্লাবের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। আবেগ কখনো নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে, কিন্তু এমন আচরণের কোনো অজুহাত হয় না। নিশ্চিত করতে চাই—এ ধরনের ঘটনা আর কখনো ঘটবে না।’ এ ধরনের ঘটনা বিরল হলেও একেবারে নতুন নয়। ২০০৮ সালে ওয়েস্ট হ্যামের বিপক্ষে স্টোক সিটির রিকার্ড ফুলার সতীর্থ অ্যান্ডি গ্রিফিনকে চড় মারলে তাকেও লাল কার্ড দেখতে হয়। ২০০৫ সালে নিউক্যাসলের লি বোয়ার ও কিয়েরন ডায়ারের হাতাহাতির ঘটনাও প্রিমিয়ার লিগের স্মরণীয় বিতর্ক। আরও পেছনে গেলে ১৯৯৫ সালে চ্যাম্পিয়নস লিগে ব্ল্যাকবার্নের ডেভিড ব্যাটি ও গ্রায়ে লে সক্সের মধ্যেও দেখা গিয়েছিল তুমুল ঝগড়া। এভারটন শিবিরের সর্বশেষ এই ঘটনার পর এখন অপেক্ষা—গুয়ের বিরুদ্ধে লিগ আর কী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়।


আরএস

Tags:
প্রিমিয়ার লিগ

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!