আমেরিকান মেজর লিগ সকার (এমএলএস)–এ লিওনেল মেসির আগমনই বদলে দিয়েছিল ইন্টার মায়ামিকে। সেই পরিবর্তনেরই পরিপূর্ণ রূপ মিলল এ মৌসুমে। মেসির জোড়া অ্যাসিস্টে প্রথমবারের মতো এমএলএস কাপ জিতেছে ফ্লোরিডার ক্লাবটি। এর মধ্য দিয়ে আর্জেন্টাইন তারকা নিজের ক্যারিয়ারের ট্রফিসংখ্যা বাড়ালেন ৪৮-এ।
গত মৌসুমেই ক্লাবটির জন্য ইতিহাস লেখেন মেসি—দলে যোগ দিয়ে এনে দেন প্রথম শিরোপা। এরপর আরও কয়েকটি টাইটেল যুক্ত হয় মায়ামির ঝুলিতে। নতুন মৌসুমেও দলের রূপ পাল্টাতে মুখ্য ভূমিকা ছিল তাঁর। আলবা, বুসকেটস, সুয়ারেজ ও সর্বশেষ রদ্রিগো ডি পল—সবাইকে দলে ভেড়ানোর পেছনে বড় প্রেরণা ছিলেন মেসি নিজেই।
এমএলএস কাপের পথটা জটিল হলেও মায়ামির অগ্রযাত্রা ছিল ধারাবাহিক। কনফারেন্সভিত্তিক লিগ কাঠামোয় ইস্টার্ন কনফারেন্সে শীর্ষে থেকে ফাইনালে ওঠে দলটি। ফাইনালে হাভিয়ের মাশ্চেরানোর দল ৩–১ গোলে হারায় টমাস মুলারদের ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটক্যাপসকে। ফোর্ট লডারডেলের চেজ স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল। তবে ৮ মিনিটেই এডিয়ার ওকাম্পোর আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায় মায়ামি। পিছিয়ে থাকা ভ্যাঙ্কুভার ৬০ মিনিটে আলি আহমেদের গোলে সমতায় ফিরলেও এরপর আর ম্যাচ ধরে রাখতে পারেনি। ৭১ মিনিটে রদ্রিগো ডি পল এবং যোগ করা সময়ে তাদেও আলেন্দের গোল মায়ামিকে এনে দেয় বড় জয়। দুটি গোলেই বল বাড়ান মেসি।
শিরোপা জয়ের পর স্মরণ করলেন গত মৌসুমের হতাশার কথা। মেসি বলেন, ‘গত বছর আমাদের লিগ খুব তাড়াতাড়িই শেষ হয়ে গিয়েছিল। এ বছর শুরু থেকেই লক্ষ্য ছিল এমএলএস জেতা। দীর্ঘ মৌসুম, অনেক ম্যাচ… কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা লক্ষ্য পূরণ করতে পেরেছি।’
ইন্টার মায়ামির সহ–মালিক ডেভিড বেকহ্যামও কৃতজ্ঞতা জানালেন এই তারকাকে। ১২ বছর আগে ক্লাবের মালিকানায় যুক্ত হওয়া বেকহ্যাম বলেন, ‘এই যাত্রা অবিশ্বাস্য। মেসি শুধু উপভোগ করতে আসেনি—সে জিততে এসেছে। দল, সতীর্থ, শহর—সব জায়গায় সে যে নিবেদন দেখিয়েছে, তা অসাধারণ। লিও তো একজন জন্মগত বিজয়ী, এটাই তার স্বাভাবিক।’
আরএস
No comments yet. Be the first to comment!